ইংরেজি ক্লাসে নিশ্চয়ই শিখেছেন, লেখার সময় সঠিক ব্যাকরণ কত জরুরি। এখন এমন অনেক প্রোগ্রাম আছে, যা লেখার সময়ই ভুল ধরে ফেলে, আর এদের মধ্যে শীর্ষে আছে Grammarly। এটি এখন খুব জনপ্রিয় ব্যাকরণ যাচাইকারী ও প্রুফরিডার। আলাদা ওয়েবসাইট হিসেবেও, আবার Google Chrome এক্সটেনশন হিসেবেও পাওয়া যায়। Windows, Mac, iPhone, iPad iOS, Safari, Android, Firefox—আরও অনেক প্ল্যাটফর্মেও চলে।
ওয়েবসাইটে অ্যাপটি ব্যবহার খুবই সহজ। আপনি Microsoft Word বা Google Docs থেকে ডক নিয়ে, লেখাগুলো কপি-পেস্ট করলেই ওয়েবসাইটে Grammarly-র সাজেশন দেখতে পাবেন। এক্সটেনশন ব্যবহার করলে সরাসরি Google Docs, সোশ্যাল মিডিয়া (যেমন LinkedIn), বা ইমেইলে (যেমন Gmail) লিখতে পারবেন। এরপর অ্যাপ নিজে থেকেই ব্যাকরণ ও বানানের ভুল ধরবে।
Grammarly-র বিনামূল্যের ও প্রিমিয়াম—দুটি সংস্করণ আছে। ফ্রি ভার্সন আপনাকে দিয়ে থাকেঃ
- রিয়েল-টাইমে বানান চেক ও ভুল ধরা
- লেখায় বারবার পুনরুক্তি চিহ্নিত করা
- যথাযথ বিরামচিহ্ন আর অন্যান্য প্রুফরিডিং সমস্যার ইঙ্গিত
যদি Grammarly-র প্রিমিয়াম সুবিধা নেন, তাহলে কীবোর্ডও আরও শক্তিশালী হয়ে যায়। প্রিমিয়াম Writing Assistant থেকে আপনি পাবেন:
- প্ল্যাজিয়ারিজম চেকার, যা বলে দেবে কত শতাংশ লেখা অন্য কোথাও থেকে কপি
- স্টাইলিস্টিক সাজেশন, যেমন বাড়তি শব্দ, প্যাসিভ ভয়েস এড়িয়ে চলা ইত্যাদি
- উন্নত শব্দ বাছাই ও সমার্থক শব্দের পরামর্শ, যা লেখার মান টেনে তোলে
Grammarly শুধুই স্পেল চেকার নয়, বরং বেশ শক্তিশালী এক টুল। আর আরও অনেক সহায়ক অ্যাপ আছে, যা এই এক্সটেনশনের সঙ্গে ব্যবহার করে আপনার লেখার মান আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
ভাবছেন, কোন কোন সহায়ক অ্যাপ হলে ভালো কাজ দেবে?
১. Toggl
সবার আগে আছে Toggl (Toggl Track), যা Grammarly.com-সাথেও দারুণ কাজ করে। ফ্রি সংস্করণেও এটি সময় ট্র্যাক করে, তাই ঘন্টার হিসাব রাখা ঝামেলাহীন হয়।
প্রোগ্রামটি দ্রুত ও ব্যবহারেও সহজ। অনেক ইন্টিগ্রেশন সাপোর্ট থাকলেও, প্রিমিয়ামের দাম একটু বেশি। ইনভয়েস বা শিডিউলিং নেই, যেগুলো সময় ট্র্যাকিংয়ের সঙ্গে অনেক সময় জরুরি হয়ে যায়।
২. Everhour
Everhour দিয়ে কত সময় কাজ করছেন সেটি ট্র্যাক করা বেশ সহজ, তাই ঘন্টাপ্রতি বিলিংও ঠিকঠাক রাখা যায়। দামও খুব বেশি নয়, তবে ইন্টিগ্রেশন বা ইনভয়েস অপশন তুলনামূলক কম। কাস্টমাইজেশন আর রিপোর্ট বানানো সহজ, ইন্টারফেসও ব্যবহারবান্ধব।
একটি অসুবিধা হলো, ওয়েবপেজ কখনও কখনও একটু দেরিতে লোড হয়। কোনো প্রজেক্ট অ্যাড না করলে টাইমার চালু করা যায় না, ফ্রি সংস্করণ নেই, অফলাইনে চলে না। তারপরও এটি বেশ শক্তিশালী প্রোগ্রাম।
৩. Last Pass
পাসওয়ার্ড ম্যানেজার লাগলে Last Pass ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি একাধিক ব্রাউজার আর ডিভাইসে একসঙ্গে কাজ করে। ডার্ক ওয়েবেও নজর রাখে পাসওয়ার্ড চুরি হয়েছে কি না দেখতে। নিরাপদে পাসওয়ার্ড শেয়ারও করতে পারবেন।
তবে ফ্রি ভার্সনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, U2F সাপোর্ট পাওয়া যায় না। আরও কিছু ব্যক্তিগত তথ্যে অটো-ফিল নেই, যা কাজের গতি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।
৪. Hypercontext
দলের সদস্যদের সঙ্গে একাধিক ব্রাউজার বা মোবাইলে একসাথে কাজ করতে চাইলে Hypercontext দারুণ উপকারী। আগে এটা Soapbox নামে ছিল। টিম মিটিং বা ১:১ আলোচনায় একেবারে পারফেক্ট—নোট নেওয়া, ফিডব্যাক দেওয়া, করণীয় ঠিক করা—সবকিছুর জন্য!
এটি Google Drive, Microsoft Teams, Slack-এ দারুণ চলে। আপাতত শুধু ইংরেজি ও ফরাসি সাপোর্টেড, কিন্তু বিভিন্ন অ্যাডঅন দলে কাজ অনেক সহজ করে দেয়।
৫. Freedom
একই ডিভাইসে সব কিছু থাকলে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার সুযোগও বেশি। Freedom দিয়ে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন ব্লক করে কাজের ফোকাস বাড়াতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া ব্লক করলে বারবার বিরক্ত হওয়া থেকেও বাঁচবেন। downside হলো, ব্যবসার জন্য দরকারি কিছু সাইটও ব্লক হয়ে যেতে পারে। তবে, চাইলে নিজেই এগুলো আনব্লক করতে পারবেন। সব মিলিয়ে মোটিভেশন বাড়াতে এটি বেশ ভালো টুল।
৬. Habitica
টাস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ দরকার হলে Habitica দেখতে পারেন। এটা কাজগুলোকে গেমের মতো ইন্টার랙টিভ করে তোলে। কারও কাছে গেমিফাইড সিস্টেম ঝামেলার লাগলেও, আবার অনেকের কাছে এটা বড় প্লাস।
বেশি ফিচার আর স্মার্ট ইউজার ইন্টারফেস চাইলে এটি যথেষ্ট ভালো। প্রচুর কাস্টমাইজেশন আছে; যে ফিচার দরকার, শুধু সেটাই চালু রেখে দিতে পারেন। ভার্সন ফ্রি, কিন্তু যারা গেম খেলে না তাদের জন্য UI একটু জটিল লাগতে পারে, আর ডেস্কটপ ভার্সনও নেই। সুবিধা-অসুবিধা ভেবে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
৭. Todoist
Microsoft Office আর Grammarly-র সঙ্গে কাজ করতে চাইলে Todoist বেশ ভালো সঙ্গী। এটাতে টু-ডু, অ্যাটাচমেন্ট, প্রজেক্ট, মন্তব্য, নোটিফিকেশন—সবই আছে। সরাসরি লেখার পরামর্শ না দিলেও, ইন্টারফেস সুন্দর, সহযোগিতার ব্যবস্থা আছে, অফলাইনেও চলে, আর বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সিঙ্ক হয়। ভাষা বাছাই আর প্রোডাক্টিভিটি রিপোর্ট এর বড় ফিচার। দাম একটু বেশি, ফ্রি ফিচার কম, তবে প্রোগ্রাম-রোটেশনে রাখার মতোই।
৮. Dragon
ডিক্টেশন প্রোগ্রাম চাইলে Grammarly-র সঙ্গে Dragon দুর্দান্ত কাজ দেয়। দামি হলেও, এতে আপনি মুখে বলে লেখেন, তারপর Grammarly তা যাচাই করে। সময়ের সঙ্গে আপনার কণ্ঠ চিনে নিয়ে আরও নির্ভুল হয়ে ওঠে। ভয়েস কমান্ড দিয়ে শর্টকাটও বানানো যায়। অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগবে, তবে একবার হাতের মুঠোয় চলে এলে অসাধারণ সুবিধা দেবে।
৯. Speechify
সবশেষে, Grammarly-র জন্য সেরা পার্টনার অ্যাপ Speechify—লেখা থেকে সরাসরি অডিও বানায়। প্রচুর কাস্টমাইজেশন আছে, ফ্রি আর প্রিমিয়াম—দুইভাবেই পাওয়া যায়। প্রিমিয়াম নিলে অবশ্য সেরাটা পাবেন।
এর কিছু সেরা ফিচারঃ
- লেখা শোনার পাশাপাশি হাইলাইট করে, ফলে শব্দভাণ্ডার বাড়ে।
- দু'ডজন ভাষায় দ্রুত অনুবাদ—দ্বিতীয় ভাষা শেখা আরও সহজ।
- কণ্ঠ, আওয়াজ, ভলিউম—সবই কাস্টমাইজ করা যায়।
- ৯ গুণ পর্যন্ত গতি বাড়ানো যায়—ভীষণ সময় সাশ্রয়ী।
- সব কণ্ঠ HD, ন্যাচারাল, লাইভ—একদম পডকাস্ট বা অডিওবুক শোনার মতো অভিজ্ঞতা।
কয়েকদিনের প্রিমিয়াম ফ্রি-ট্রায়ালও পাবেন, আগে ব্যবহার করে তারপর কিনতে পারবেন। এত ফিচার থাকায় Speechify-ই Grammarly-র সেরা পার্টনার অ্যাপ হিসেবে নজর কাড়ে।
প্রশ্নোত্তর
Grammarly-র সহায়ক অ্যাপ নিয়ে অনেকের সাধারণ কিছু প্রশ্নঃ
Grammarly-র সঙ্গে কোন কোন অ্যাপ ভালো চলে?
অনেকে Grammarly-র সঙ্গে ProWritingAid, Scrivener ব্যবহার করলেও Speechify সবচেয়ে মসৃণভাবে চলে। Speechify দিয়ে লেখার ভুল শনাক্ত করার পাশাপাশি, একই লেখা শোনাও যাবে। এতে টোন ঠিক রাখা আর লেখা নির্ভুল করা অনেক সহজ হয়।
Grammarly-র ডেস্কটপ অ্যাপ আছে?
হ্যাঁ, ডেস্কটপ অ্যাপ আছে। চাইলে সরাসরি কম্পিউটারে ব্যবহার করতে পারবেন। ব্রাউজার এক্সটেনশনও ট্রাই করে দেখতে পারেন। মোবাইল, নানা ওয়ার্ড প্রসেসরেও চলে। ডেস্কটপ অ্যাপ ব্যবহার করে দেখুন, সাথে চাইলে Speechify-ও ব্যবহার করতে পারেন।
Grammarly কোন কোন অ্যাপের সঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড?
অনেক দারুণ অ্যাড-অন আর টুলের সঙ্গে Grammarly চলে, তবে Speechify-র সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন এক কথায় সেরা। Speechify আপনার লেখা কথা বানায়—অর্থাৎ, দুই প্রোগ্রাম একসাথে চালালে কিছু মিস হওয়ার সুযোগ থাকে না। দুটোই হাতের নাগালে রেখে কাজে লাগান।

