আপনি ইউটিউব ভিডিও নির্মাতা হন বা ইনস্টাগ্রামে রিল কিংবা পডকাস্টকে আরও ভাল করতে চান, ভিক্সারের মতো ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করলে আপনার কাজ এক ধাপ এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক ভয়েসওভার যোগ করলে কনটেন্ট হবে আরও পেশাদার, আর সবাই আরও সহজে উপভোগ করতে পারবে।
ভিক্সারে কীভাবে ভয়েসওভার যোগ করবেন
এআই ভয়েসওভার বানানোর উপায়
- একটি টেক্সট-টু-স্পিচ (TTS) সার্ভিস বেছে নিন: অনলাইনে অনেক TTS সার্ভিস আছে যা এআই ভয়েসওভার তৈরি করতে পারে। গুগল টেক্সট-টু-স্পিচ, অ্যামাজন পলি ও আইবিএম ওয়াটসন কয়েকটি জনপ্রিয় উদাহরণ।
- ভয়েসওভার তৈরি করুন: এই সাধারণ ধাপগুলো অনুসরণ করুন, তবে আপনার TTS সার্ভিস অনুযায়ী পদ্ধতিতে সামান্য তারতম্য থাকতে পারে। ক. নির্ধারিত TTS ওয়েবসাইটে যান। খ. একাউন্ট খুলুন বা সাইন ইন করুন। গ. আপনার টেক্সট লিখুন বা পেস্ট করুন। ঘ. ভাষা ও ভয়েস নির্বাচন করুন। অনেক TTS-এ বিভিন্ন ভাষা, পুরুষ/মহিলা, উচ্চারণসহ ভয়েস থাকে। ঙ. "generate" বা "synthesize" বাটনে ক্লিক করুন। চ. অডিও ফাইল (.mp3 বা .wav) ডাউনলোড করুন।
ভিক্সারে ভিডিওতে এআই ভয়েসওভার যোগ করার ধাপ
- ভিক্সার ওয়েবসাইটে যান: ব্রাউজারে www.vixerapp.com টাইপ করে খুলুন।
- আপনার প্রজেক্ট খুলুন: "Start Editing" ক্লিক করে নতুন প্রজেক্ট নিন বা "Open Project" দিয়ে আগের প্রজেক্ট খুলুন। নতুন হলে ভিডিও আপলোড করুন।
- অডিও ফাইল যোগ করুন: ক. স্ক্রিনের বামে "Audio" ক্লিক করুন। খ. "Upload Audio" দিয়ে নতুন অডিও নিন। গ. আপনি ডাউনলোড করা এআই ভয়েসওভার ফাইলটি নির্বাচন করে আপলোড করুন।
- অডিও ঠিকমতো বসান: ক. আপনার অডিওটি ভিডিও ট্র্যাকের নিচের অডিও ট্র্যাকে থাকবে। খ. অডিও ড্র্যাগ করে সঠিক জায়গায় এনে বসিয়ে দিন। নিজের মতো করে মিলিয়ে নিতে পারবেন।
- অডিও এডিট করুন: ভিক্সারে অডিও ভলিউম, ফেড ইন/আউট ও ট্রিম করতে পারবেন। টাইমলাইন-এ অডিও ফাইলে ক্লিক করলেই "Audio Effects" অপশন দেখবেন।
- ভিডিও প্রিভিউ দিন: প্লে বাটনে ক্লিক করে দেখুন ভিডিও ও ভয়েসওভার ঠিকমতো শুরু-শেষ হচ্ছে কি না, আর সাউন্ড ভালো শোনা যাচ্ছে কি না।
- ভিডিও এক্সপোর্ট করুন: সব ঠিকঠাক লাগলে "Export" ক্লিক করে ভিডিও সেভ করুন। রেজল্যুশন ও ফ্রেম রেট ঠিক করে নিন।
ভিক্সার কি ভালো এডিটিং অ্যাপ?
ভিক্সার একটি শক্তিশালী এডিটিং অ্যাপ, এতে রয়েছে দারুণ মানের ভিডিও এডিটিং টুল। সোশ্যাল মিডিয়া বা সাবস্ক্রাইবারদের জন্য ভিডিও বানানোর সময়ও সাবটাইটেল, টেমপ্লেট আর মানসম্মত ভয়েসওভারসহ অনেক দরকারি ফিচার কাজে দেবে।
Windows Video Editor ও Windows Movie Maker-এ কীভাবে ভয়েসওভার যোগ করবেন?
Windows Video Editor ও Windows Movie Maker উইন্ডোজ ইউজারদের জন্য বেশ নির্ভরযোগ্য টুল। এখানে ভয়েসওভার যোগ করার ধাপগুলো:
- নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ভিডিও আপলোড করুন।
- 'Home' ট্যাবে 'Record narration' এ ক্লিক করুন।
- নিজের কণ্ঠে সরাসরি রেকর্ড করুন বা আগে বানানো অডিও ফাইল ব্যবহার করুন।
ভিডিওতে কীভাবে এআই ভয়েসওভার যোগ করবেন?
TTS সুবিধাযুক্ত সফটওয়্যার থাকলে এআই ভয়েসওভার যোগ করা খুব সহজ। ভিক্সার ও অনলাইন AI ভয়েস জেনারেটর দিয়ে কয়েক ক্লিকেই টেক্সটকে স্পিচ-এ রূপান্তর করে ভিডিওতে বসিয়ে দিতে পারবেন।
ভিক্সারের ৯টি দারুণ বিকল্প
- Speechify Voice Over: Speechify Voice Over ব্রাউজারে চলা শক্তিশালী ভয়েসওভার অ্যাপ। AI দিয়ে সহজেই চমৎকার ফিচার পেতে পারেন। আজই ফ্রি ট্রাই করে দেখুন!
- Vixer App: সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের জন্য দারুণ ভিডিও এডিটর। AI ভয়েসওভার (TTS) সাপোর্ট করে।
- Flixier: ক্লাউড-ভিত্তিক এডিটর, এতে এআই ভয়েসওভার ফিচার আর শক্তিশালী এডিটিং টুল আছে।
- Adobe Premiere Pro: পেশাদার সফটওয়্যার, বিশাল এডিটিং টুলস। তবে এখানে AI ভয়েসওভার বিল্ট-ইন নেই।
- iMovie: আইফোন ও ম্যাকে ফ্রি, ব্যবহারও সহজ। তবে এতে বিল্ট-ইন TTS নেই।
- Filmora: ফ্রি ভার্সনে বেসিক এডিটিং সুবিধা আছে, তবে এতে AI ভয়েসওভার নেই।
- DaVinci Resolve: উচ্চমানের ফ্রি এডিটর, শিখতে সময় লাগে এবং AI ভয়েসওভার নেই।
- PowerDirector: উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে চলে, অনেক টুলস আছে, তবে TTS নেই।
- InVideo: অনলাইন এডিটর, নতুনদের জন্য বেশ সহজ। মাল্টি-ল্যাঙ্গুয়েজ AI ভয়েসওভার সাপোর্ট করে।
AI TTS যুক্ত ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার বেছে নিন—এতে দ্রুত মানসম্পন্ন ভয়েসওভার করা অনেক সহজ হয়। এতে আপনার ভিডিও আরও আকর্ষণীয় লাগবে এবং দর্শকের মনোযোগ বাড়বে। এইসব টুল দিয়ে আরও বেশি দর্শক টেনে আনা সম্ভব।

