২০২৩ সালে পড়ার জন্য সেরা আত্মজীবনীমূলক বই
আত্মজীবনী অন্যের জীবন-অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেয়। বাজারের সেরা আত্মজীবনীগুলো পাঠককে অসংখ্য অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সঙ্গে পরিচয় করায়। ২০২৩ সালে পড়ার মতো সেরা বই খুঁজছেন? এই লেখায় আত্মজীবনী ঘরানার কিছু অবশ্যপাঠ্য বইয়ের সুপারিশ থাকছে।
আত্মজীবনী কী?
অটোবায়োগ্রাফির মতো একটি আত্মজীবনী হলো নন-ফিকশন বই, যেখানে লেখক নিজের গল্প বর্ণনা করেন। যেখানে বাইোগ্রাফি বা অটোবায়োগ্রাফি লেখকের পুরো জীবনকে তুলে ধরে, সেখানে আত্মজীবনী সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা সময়ের প্রতিচ্ছবি। ল্যাটিন memoria শব্দের অর্থই 'স্মৃতি', অর্থাৎ স্মরণ। আত্মজীবনী বাস্তব ঘটনা নির্ভর—তবে তাতে কিছু সৃজনশীল বর্ণনা থাকতে পারে। লেখক কখনও সাহিত্যিক ছন্দ ও গতি ধরে রাখতে কিছু অংশ বদলাতে পারেন। আকারে ছোট বা উপন্যাসের মতো দীর্ঘ—ভালো আত্মজীবনী সব সময়ই চিন্তার খোরাক দেয়। এটি হতে পারে কোনো নতুন স্ব-প্রকাশক এর লেখা, আবার হতে পারে কোনো সেলিব্রেটির কাজও। মূল বিষয় হলো—লেখক নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে পাঠককে কোনো বার্তা দিতে চান। প্রায় সব আত্মজীবনী প্রথম পুরুষে লেখা হয়, যাতে ব্যক্তিগত আবহটি স্পষ্ট থাকে।
আপনার ২০২৩ সালের তালিকার সেরা আত্মজীবনী
প্রাচীনকাল থেকেই অসংখ্য আত্মজীবনী লেখক আছেন এবং ক্লাসিক্যাল যুগেও অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তি তাদের জীবন-অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছেন। আজও অসংখ্য মানুষ তাদের জীবনকাহিনি শেয়ার করছেন। ২০২৩ সালে কোনোভাবেই মিস না করার মতো সেরা আত্মজীবনীর তালিকা রইল এখানে।
অল ওভার বাট দ্য শাউটিন’ - রিক ব্র্যাগ
রিক ব্র্যাগ একজন নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্টার ও পুলিটজার বিজয়ী। কিন্তু তার শৈশব কিন্তু একদমই সাফল্যের আভাস দেয়নি। ১৯৬০–এর দশকের আলাবামার দরিদ্র পরিবারে, কঠোর মদ্যপিতার সন্তান হিসেবে তার ভবিষ্যৎ যেন আগেই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার আত্মজীবনীতে পরিবারের নানান চ্যালেঞ্জের গল্প তিনি তুলে ধরেছেন। এখানে তিনি এক কঠিন বাস্তবতার ভেতর মানুষের ভালো-মন্দ সব দিকই শিল্পিত ভঙ্গিতে এঁকেছেন, যে পরিবেশ একদিকে পরিবারকে টিকিয়ে রেখেছে, আবার ব্যক্তিগত বিকাশকেও বারবার আটকে দিয়েছে।
এডুকেটেড - টারা ওয়েস্টওভার
টারা ওয়েস্টওভারের আত্মজীবনী এক অবিশ্বাস্য আত্ম-উন্নয়নের কাহিনি। আইডাহোর এক কঠোর, সঙ্কীর্ণ পরিবেশের পরিবারে তার বেড়ে ওঠা; চৌদ্দ বছর পর্যন্ত কোনোদিন স্কুলের গণ্ডিই দেখেননি। ভাই কলেজে গেলে তার ভেতর শেখার আগ্রহ জেগে ওঠে। এরপর টারা নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে বাড়ি ছেড়ে বহু দূরে চলে যান। শেষ পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ইট, প্রে, লাভ - এলিজাবেথ গিলবার্ট
খুব জনপ্রিয় এই বই, ইট, প্রে, লাভ অনেকের কাছেই মাঝে মাঝে স্ব-উন্নয়ন বইয়ের মতো মনে হয়। এলিজাবেথ গিলবার্টের আমেরিকায় সফল ক্যারিয়ার থাকলেও তিনি জীবনের আসল মানে খুঁজে ফিরছিলেন। সেই তাগিদেই তিনি দেশ ছেড়ে ইতালি, ভারত আর ইন্দোনেশিয়ায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। প্রতিটি দেশে, প্রতিটি সংস্কৃতিতে যা যা শিখেছেন, সবই তিনি তার আত্মজীবনীতে হাস্যরস ও আত্মমুখী ভাবনার মিশেলে তুলে ধরেছেন।
আই নো হোয়াই দ্য কেজড বার্ড সিংস - মায়া অ্যাঞ্জেলু
শৈশব নানা ধরনের রহস্য, কষ্ট আর আনন্দে ভরা। মায়া অ্যাঞ্জেলুর শৈশব ছিল হতাশা, বর্ণবৈষম্য আর এক ভয়াবহ আক্রমণের স্মৃতিতে জর্জরিত। পরিবারের আশ্রয়, ভালোবাসা ও শিক্ষার জোরে তিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন দৃঢ়চিত্ত। আই নো হোয়াই দ্য কেজড বার্ড সিংস–এ তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে উদারতা, আত্ম-ভালোবাসা আর মনের জোরের শক্তি তাকে বেদনার মধ্যেও মুক্তির পথ দেখিয়েছে।
স্পিচিফাই-এ জীবন বদলে দেওয়া আত্মজীবনী শুনুন
আপনি যদি আত্মজীবনী পড়তে ভালোবাসেন, শুনলে আরও জীবন্ত, নিবিড় অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। স্পিচিফাই আপনাকে মানসম্মত আত্মজীবনীগুলোর অডিওবুক শোনার সুযোগ দেয়। স্পিচিফাই একটি অডিওবুক পরিষেবা, যেখানে নানা ঘরানার অজস্র বই আছে, আর ব্যবহার করাও একেবারে সহজ। চাইলে পছন্দের বই খুঁজে নিন, অথবা স্পিচিফাইয়ের বিশাল লাইব্রেরি ঘুরে দেখুন। প্রথম বই পাবেন একদম বিনামূল্যে। ইচ্ছে হলে এখনই স্পিচিফাইতে যান এবং শ্রেষ্ঠ অডিওবুক পরিষেবা ব্যবহার করে দেখুন।
প্রশ্নোত্তর
আত্মজীবনী ও জীবনীর মধ্যে পার্থক্য কী?
আত্মজীবনী ও জীবনী দুটোই কোনো ব্যক্তির জীবন অবলম্বনে লেখা নন-ফিকশন। তবে, জীবনীতে সাধারণত ঘটনা ধারাবাহিকভাবে থাকে, আর আত্মজীবনীতে থাকে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা জীবনের কোনো বিশেষ সময়ের কথা।
আত্মজীবনী কি ছোটগল্প?
সাধারণত একটি আত্মজীবনীতে ৬০,০০০-৬৫,০০০ শব্দ থাকে, যা অনেক উপন্যাসের সমান। অন্যদিকে ছোটগল্প এমন লেখা, যা এক বৈঠকেই পড়া শেষ করা যায়।
আত্মজীবনী কি উপন্যাস?
আত্মজীবনী আকারে উপন্যাসের মতো বড় হতে পারে, তবে এগুলো সত্য ঘটনা অবলম্বনে হওয়া উচিত। লেখক নাম বদলাতে পারেন, সামান্য অলঙ্করণও করতে পারেন, তবু মূল ঘটনাগুলো সত্য হওয়া দরকার।
আত্মজীবনী কি কল্পকাহিনি হতে পারে?
আত্মজীবনীতে লেখকের জীবনের সত্য ঘটনা উঠে আসাই প্রত্যাশিত। তবে কিছু বইয়ে কল্পিত অংশও বেশ থাকে। আনুষ্ঠানিকভাবে এতে বাধা না থাকলেও, প্রচলিতভাবে এটিকে অনেকেই অনৈতিক বলে মনে করেন।

