টেকনোলজির এই বদলের যুগে, অ্যাপল একের পর এক নতুন ফিচার এনে ব্যবহারকারীদের চমকে দিচ্ছে। iOS17-এ এসেছে দারুণ ভয়েস ক্লোনিং ফিচার। সাম্প্রতিক WWDC-তে ঘোষিত 'Personal Voice' ফিচার দিয়ে ব্যবহারকারী নিজের কণ্ঠ নকল করে Apple-এর বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারেন। এই লেখায় থাকছে iOS17-এ ভয়েস ক্লোনিং কীভাবে কাজ করে, কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং এটি অনলাইনে চলে কি না।
ভয়েস ক্লোনিং দিয়ে কী করা যায়?
ভয়েস ক্লোনিং-এর ব্যবহার অনেক রকম। সরাসরি কথোপকথনে আরও স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা দিতে, Siri-তে আপনজনের বা নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করতে, Facetime-এ লাইভ স্পিচ, পডকাস্ট বা চ্যাটবট ভয়েস হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। যারা স্নায়ুবিক বা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন, যেমন ALS, তারা নিজের কণ্ঠে আরও সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন।
iOS 17-এ Personal Voice তৈরি করতে কত সময় লাগে?
Personal Voice দিয়ে ভয়েস ক্লোন বানানো বেশ সহজ। কয়েক মিনিট কিছু বাক্য পড়ে অডিও রেকর্ড করতে হয়, এরপর ডিভাইসে থাকা মেশিন লার্নিং মডেল সেই কণ্ঠ অনুকরণ করে। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ২০-৩০ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়।
iPhone-এর Voice Clone অ্যাপ কী?
iOS 17-এর নতুন অ্যাক্সেসিবিলিটি ফিচারের অংশ হিসেবেই ভয়েস ক্লোন কাজ করে। এটি আলাদা কোনো অ্যাপ নয়, বরং iOS-এর ভেতরেই এক্সেসিবিলিটি ও অ্যাসিস্টিভ অ্যাক্সেস আরও শক্তিশালী করে। এটি iPhone 15, iPad, Apple Watch, Mac, এমনকি Apple TV-তেও কাজ করে।
Personal Voice কীভাবে অ্যাক্সেস করবেন?
ভয়েস তৈরি করার পর Settings-এর 'Accessibility' সেকশন থেকে নিজের কণ্ঠ বেছে নিতে পারবেন। এখান থেকে Siri-তে প্রয়োগ, টেক্সট প্রম্পট কাস্টমাইজ, বা বিভিন্ন অ্যাপে রিডিংয়ের জন্য সেট করা যাবে। এই ফিচার MacOS Sonoma, iPadOS 17 ও VisionOS-এও আছে।
iOS17-এ Apple-এর ভয়েস ক্লোনিং কীভাবে চলে?
Apple-এর ভয়েস ক্লোনিং-এর আড়ালে কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং। রেকর্ড করা কণ্ঠ থেকে স্বর, টোন, উচ্চারণ বিশ্লেষণ করে নিউরাল নেটওয়ার্ক আপনার কণ্ঠের মতো ভয়েস তৈরি করে। গোপনীয়তার স্বার্থে সব প্রসেসিং হয় ডিভাইসেই—ভয়েস ডেটা বাইরে পাঠানো হয় না।
ভয়েস ক্লোনিং ব্যবহারের সুবিধা
ভয়েস ক্লোনিং ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে আরও ব্যক্তিগত আর সবার জন্য ব্যবহারবান্ধব করে তোলে। নিজের কণ্ঠে Siri ও অন্যান্য অ্যাপে কথা শোনা যায়। Safari-তে পেজ রিডিং, Apple Watch-এ রিমাইন্ডার—সবই সম্ভব। আপনজন দূরে থাকলেও তাদের কণ্ঠ শুনে এক ধরনের মানসিক স্বস্তি পাওয়া যায়। আবার কেউ কথা বলতে অক্ষম হলেও নিজের কণ্ঠে কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পান।
iPhone-এ ভয়েস ক্লোন অ্যাপ কীভাবে ডাউনলোড করবেন?
আগেই বলা হয়েছে, ভয়েস ক্লোনিং আলাদা অ্যাপ নয়, iOS17-এর ভেতরের ফিচার। এটি ব্যবহার করতে চাইলে iPhone বা iPad শুধু iOS17-তে আপডেট করলেই হবে। আপডেটের পর Settings → Accessibility-তেই এটি খুঁজে পাবেন।
ভয়েস ক্লোনিং কি অনলাইনে চলে?
হ্যাঁ, ভয়েস ক্লোনিং অনলাইন ব্যবহারেও কাজ করে। তবে নিরাপত্তার জন্য কণ্ঠের ডেটা কখনোই ডিভাইসের বাইরে যায় না। Facetime কল কিংবা অনলাইনে Siri-তে ব্যবহার করলেও, সব প্রোসেসিং নিরাপদভাবে অন-ডিভাইসেই সম্পন্ন হয়।
iPhone-এ ভয়েস ক্লোনিং কীভাবে ব্যবহার করব?
Settings → Accessibility থেকে ভয়েস ক্লোনিং চালু করুন। প্রথমে কিছু প্রম্পট পড়ে নিজের কণ্ঠ রেকর্ড করতে হবে, তারপর সিস্টেম সেই কণ্ঠ বিশ্লেষণ করবে। ক্লোন তৈরি হলে সব Apple ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারবেন—MacBook-এ নিউজ পড়ানো থেকে শুরু করে iPhone-এ Siri-র কণ্ঠ বদলানো পর্যন্ত।
ভয়েস-সংক্রান্ত সেরা কয়েকটি সফটওয়্যার বা অ্যাপ দেখে নিন, যেগুলোর রয়েছে কিছু বাড়তি সুবিধা:
- Speechify Voice Cloning: Speechify ভয়েস ক্লোনিং-এ খুব সহজেই কণ্ঠ ক্লোন করা যায়। শুধু ব্রাউজারে ৩০ সেকেন্ড রেকর্ড করুন, সঙ্গে সঙ্গেই কণ্ঠের নকল তৈরি হবে।
- Apple-এর Siri: iOS17-তে একীভূত; এখন এটি ব্যক্তিগত কণ্ঠ ব্যবহার করতে পারে, ফলে ব্যবহারকারীর জন্য বেশ ব্যক্তিগত এক্সপেরিয়েন্স দেয়।
- ChatGPT: OpenAI-এর AI, যা প্রম্পট থেকে মানুষের মতো লেখা তৈরি করতে সক্ষম।
- Microsoft-এর Cortana: Microsoft-এর ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, যা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভয়েস সুবিধা দেয়।
- Amazon-এর Alexa: নানা ডিভাইসে Alexa ব্যবহার করে প্রশ্ন করা, মিউজিক শোনা ও স্মার্ট হোম কন্ট্রোল করতে পারেন।
- Samsung-এর Bixby: Samsung স্মার্টফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে পাওয়া যায় এমন ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট।
- Google Assistant: Google-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট, বিভিন্ন কণ্ঠ সনাক্ত করে ব্যক্তিগতকৃত উত্তর দিতে পারে।
- Apple-এর Voice Control: iOS-এর অ্যাক্সেসিবিলিটি ফিচার, পুরো ডিভাইসই কণ্ঠের মাধ্যমে কন্ট্রোল করা যায়।
- Voiceitt: যারা কথা বলতে বা উচ্চারণে সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি; অস্বাভাবিক উচ্চারণের কথাও সহজবোধ্য করে তোলে।
টিম কুক যেমন সাম্প্রতিক WWDC-তে বলেছেন, অ্যাপল সবসময়ই প্রযুক্তিতে অগ্রগামী—সবার জন্য আরও সহজ আর আনন্দময় জীবন গড়ার লক্ষ্যেই। iOS17-এ ভয়েস ক্লোনিংসহ নতুন অ্যাক্সেসিবিলিটি ফিচার আমাদের আরও ব্যক্তিগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির স্বাদ দেবে। iPhone, iPad, Mac ব্যবহারকারীদের জন্য সামনে আরও অনেক চমক অপেক্ষা করছে। iOS16, iOS17 কিংবা পরের সংস্করণ—সব জায়গায়ই সেরা অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য অ্যাপল নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

