আপনি কত দ্রুত পড়তে পারেন?
দ্রুত পড়ার অনেক উপকার আছে। যত দ্রুত পড়বেন, তত বেশি বই শেষ করতে পারবেন। এটা বইপ্রেমীদের জন্য দারুণ খবর। আনন্দের পাশাপাশি, দ্রুত পড়া আপনার কাজ ও পড়াশোনার জন্যও ভীষণ উপকারী। ফলে দ্রুত পড়ে সময় বাঁচাতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারবেন।
দ্রুত পাঠক হতে হলে আপনাকে কত দ্রুত পড়তে হবে ভাবছেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক আপনি গড়ের চেয়ে ধীরে নাকি দ্রুত পড়েন পড়ার গতি-এর ভিত্তিতে।
আপনি যদি বুঝতে পারেন একটু ধীরে পড়েন, চিন্তা নেই। আমরা দেখাবো পড়ার গতি বাড়ানোর উপায়।
আপনার বর্তমান পড়ার গতি ঠিক করুন
অনলাইন স্পিড রিডিং টেস্টের কারণে নিজের পড়ার গতি জানা এখন খুব সহজ। পড়ার গতি মাপতে, এই ওয়েবসাইটগুলোতে যান:
এরপর Start-এ ক্লিক করে রিডিং মেটেরিয়াল বেছে নিন। পড়া আর বোঝা শেষ হলে End বা Done চাপুন। ওয়েবসাইট বোঝার জন্য কুইজও দিতে পারে। তারপরে, এটি আপনাকে প্রতি মিনিটে শব্দের সংখ্যা (wpm) দেখাবে।
আপনার আরও দ্রুত পড়া দরকার কি?
সাধারণত প্রাপ্ত বয়স্কদের পড়ার গতি ২০০–৩০০ wpm। এতে পড়া আর বোঝার মধ্যে ভালো ভারসাম্য থাকে।
স্কুলের বা কলেজ ছাত্রছাত্রীরা সাধারণত মিনিটে ১০০–২০০ শব্দ পড়ে। ৪০০ wpm–এর বেশি পড়া দ্রুত, আর ৭০০ wpm স্পিড রিডিং।
এই সংখ্যাগুলো দেখে ভয় পাবেন না। প্রত্যেকের পড়ার ধরন আলাদা। দরকারে পড়ার গতি কমাতেও হতে পারে। যেমন, পড়াশোনার সময় কম গতি দরকার হয়। এতে আপনি:
- আবার পড়ে নিতে পারবেন
- গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইলাইট করতে পারবেন
- ভালোভাবে বুঝতে পারবেন
আবার, সময় কম থাকলে দ্রুত পড়া বেশ কাজে লাগে। এই গতি অনেক সুবিধা দেয়:
- কম সময় লাগে
- বেশি বিষয় পড়া যায়
- চারপাশের মূল ধারণা ধরা যায়
তবুও, অস্বস্তি লাগলে বাড়াবাড়ি করবেন না। না হলে পড়ার মান খারাপ হবে আর আপনি বইটিতে ডুবে যেতে পারবেন না।
কীভাবে পড়ার গতি বাড়াবেন
পড়ার গতি পছন্দ না হলে ভালো খবর হচ্ছে, এটা বাড়ানো যায়। নিচে কিছু প্রমাণিত কৌশল দেওয়া হলো।
সাবভোকালাইজেশন কমান
সাবভোকালাইজেশন, মানে মনে মনে উচ্চারণ করা, অন্যতম খারাপ পড়ার অভ্যাস। এতে পাঠকরা মনে মনে প্রতিটা শব্দ বলে যায়, আর গতি কমে যায়।
সাবভোকালাইজেশন কমাতে পড়ার সময় গান শুনে বা চুইংগাম চিবোতে পারেন। এতে মন অন্যদিকে ব্যস্ত থাকবে।
একই শব্দ বারবার পড়া এড়িয়ে চলুন
অনেকেই পড়ার সময় অজান্তেই একই অংশ বারবার পড়েন, যাকে বলে রিগ্রেশন। এই অভ্যাস ছাড়তে পৃষ্ঠার ওপর আঙুল চালিয়ে পড়ুন বা বুকমার্ক ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে শুধু সামনে এগোন।
পার্শ্বদৃষ্টি কাজে লাগান
পড়ার সময় পার্শ্বদৃষ্টি ব্যবহার করলে দ্রুত পড়া যায়। লাইনের মাঝামাঝি তাকিয়ে পার্শ্বদৃষ্টি দিয়ে বাকিটা পড়লে চোখ পুরো লাইন তাড়াতাড়ি স্ক্যান করবে। তবুও, বোঝার মান ঠিক থাকবে।
Speechify দিয়ে একসাথে দ্রুত পড়ুন আর বুঝুন
এমন অনেক পড়ার কৌশল আছে যা আপনাকে আরও দক্ষ পাঠক বানাবে। এর পাশাপাশি প্রযুক্তি দিয়েও উন্নতি আনতে পারেন।
Speechify হলো টেক্সট টু স্পিচ (TTS) সফটওয়্যার, যেটি পড়ার গতি বাড়ায়। এটা টেক্সটকে কথায় রূপান্তর করবে, তাই যেকোনো লেখা অনেক দ্রুত শেষ করতে পারবেন। চাইলে গতি আরও বাড়াতে পারবেন।
বোঝার দিকে বেশি মন দিতে চাইলে, একসাথে শোনা আর পড়া করলে তথ্য ধরে রাখা অনেক সহজ হয়। Speechify পড়ার সময় লেখাও হাইলাইট করে দেখায়।
এই সুবিধাজনক টুলটি সব ডিভাইসে ও নানা ফরম্যাটে চলে। ফলে শুধু বই নয়,ইমেইল, অফিসের ডকুমেন্ট, পড়াশোনার নোট—সবই দ্রুত পড়তে পারবেন। নিজের মতো করে ভয়েসও বেছে নিতে পারবেন।
যে ভয়েসই নিন, সেটি স্বাভাবিক ও মধুর শোনাবে, আর প্রতি বারই সুন্দর অভিজ্ঞতা দেবে।
Speechify ভালো লাগলে, এখনই ফ্রি ডাউনলোড করুন আর নিজেই উপকারটা টের পান।
প্রশ্নোত্তর
মানুষ কত দ্রুত পড়তে পারে?
হাওয়ার্ড স্টিফেন বার্গ বিশ্বের দ্রুততম পাঠক হিসেবে পরিচিত। তিনি মিনিটে ২৫,০০০ শব্দ পড়ে এই রেকর্ড গড়েছেন। তবে, নানা কৌশল আয়ত্ত করার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে, গড় মানুষের পক্ষে নয়।
এক ঘণ্টায় ১০০ পৃষ্ঠা পড়া যায়?
অসম্ভব না, কিন্তু গড় পাঠকের জন্য খুব কঠিন। যে ঘণ্টায় ৫০ পৃষ্ঠার বেশি পড়ে, সে-ই দ্রুত পাঠক। ১০০ পৃষ্ঠা পড়তে তারও প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যাবে।
বিল গেটস কত দ্রুত পড়েন?
বিল গেটসের পড়ার গতি আনুমানিক ৭৫০ wpm, এই গতিতে তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ পৃষ্ঠা পড়তে পারেন।
এক পৃষ্ঠায় কত শব্দ থাকে?
সাধারণত সিঙ্গেল স্পেসিং থাকলে এক পাতায় প্রায় ৫০০ শব্দ থাকে। ডাবল স্পেসিং হলে প্রায় ২৫০ শব্দ।
বাইবেল কত দ্রুত পড়া যায়?
বাইবেলে প্রায় ৮০,০০০ শব্দ রয়েছে। একজন গড় পাঠক মিনিটে প্রায় ২৫০ শব্দ পড়ে। তাই, এই গতিতে বাইবেল পড়ে শেষ করতে পাঁচ ঘণ্টার একটু বেশি সময় লাগবে।

