কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন নতুন কিছু নয়, বরং আমাদের জীবনের এক অপরিহার্য টুল। এটি ভিডিও বানানোতেও নেমে এসেছে। নানা ধরনের এআই ভিডিও জেনারেটর দিয়ে এখন যে কেউ কয়েক মিনিটেই মানসম্মত, দৃষ্টি-কাড়া ভিডিও তৈরি করতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য হোক বা ইউটিউব চ্যানেলের কনটেন্ট—এআই প্রযুক্তি ভিডিও প্রোডাকশনকে আগের চেয়ে অনেক সহজ ও কার্যকর করেছে।
ফ্রি এআই ভিডিও কিভাবে বানাবেন
এআই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো ফ্রি টুলের সহজলভ্যতা। ইনভিডিও, লুমেন৫, সিনথেশিয়া–সহ অনেক এআই ভিডিও মেকার প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে বেসিক ফিচার পাওয়া যায়, যাতে এক টাকাও খরচ না করে আকর্ষণীয় ভিডিও বানানো সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে ইনভিডিও টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেটর দেয়, যা স্ক্রিপ্টকে প্রফেশনাল ভিডিওতে বদলে ফেলে। লুমেন৫ মেশিন লার্নিং দিয়ে ব্লগ/আর্টিকেল থেকে ভিডিও স্ক্রিপ্ট বানায়; আর সিনথেশিয়া দিয়ে এআই অ্যাভাটার তৈরি করা যায়।
এআই ভিডিও নির্মাতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এখন অনেক ভিডিও এডিটর তৈরি হয়েছে। এসব এআই ভিডিও নির্মাতা টুল ভিডিও বানানোর ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ভিডিওর লুক সুন্দর করে, অডিও-ভিডিও সমন্বয় সহজ করে, সঙ্গে আরও নানান দরকারি ফিচার দেয়।
নিজের এআই তৈরি
নিজের এআই বানাতে হলে মেশিন লার্নিং ও অ্যালগরিদম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা দরকার। গুগল এআই প্ল্যাটফর্ম, আইবিএম ওয়াটসন, মাইক্রোসফট আজুর–এ নানা টুল ও টিউটোরিয়াল আছে, যেগুলোর সাহায্যে এআই মডেল তৈরি ও ট্রেইন করা যায়।
তবে এই পথ সবার জন্য নয়। কিন্তু এআই দিয়ে ভিডিও বানানোর অসংখ্য অ্যাপ আছে, যেগুলো শিখে নিতে হয় না—যে কেউ খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন।
ছবি দিয়ে এআই ভিডিও তৈরি
ছবি থেকে ভিডিও বানানো এআই-এর জন্য এখন অনেক সহজ। যেমন উইন্ডোজ মুভি মেকার-এ টেম্পলেট আর ট্রানজিশন ব্যবহার করে ছবি জুড়ে চোখে লাগার মতো ভিডিও বানানো যায়। প্রোমো-এর মতো এআই টুলে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সাবটাইটেল, ফন্ট বদলানো—সবই করা যায়।
স্মার্টফোন দিয়ে এআই ভিডিও
স্মার্টফোনেই এখন ভিডিও বানানো হাতের মুঠোয়। অ্যাডোবি প্রিমিয়ার রাশ, স্প্লাইস-এর মতো অনেক অ্যাপে এআই ফিচার থাকায় ফোন থেকেই ভিডিও এডিট করা যায়—টেম্পলেট, অ্যানিমেশনসহ আরও অনেক সুবিধা দেয়।
কণ্ঠস্বর দিয়ে এআই ভিডিও বানানো
ভিডিও প্রোডাকশনে এআই কণ্ঠ এখন বেশ জনপ্রিয়। যেমন ChatGPT, Synthesia টেক্সট-টু-স্পিচ দিয়ে লেখাকে ভয়েসওভারে বদলে ফেলে। ট্রেনিং ভিডিও বানাতে এই ফিচার দারুণ কাজে লাগে।
উইন্ডোজ মুভি মেকারে এআই ভিডিও
বেসিক এডিটর হলেও উইন্ডোজ মুভি মেকার-এ এআই টুল যোগ করা যায়। সাবটাইটেল আর টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেটর ব্যবহার করে বেশ আকর্ষণীয় ভিডিও বানাতে পারবেন।
ওয়েবক্যামে এআই ভিডিও
Animaker, Biteable-এর মতো এআই ভিডিও টুল দিয়ে সরাসরি ওয়েবক্যাম থেকে ভিডিও রেকর্ড করুন। চাইলে এআই অ্যাভাটার, অ্যানিমেশন ইত্যাদিও সহজে যোগ করতে পারবেন।
শীর্ষ ৮টি এআই ভিডিও সফটওয়্যার ও অ্যাপ
- স্পিচিফাই ভিডিও: স্পিচিফাই ভিডিও একটি এআই টুল, যেটা দিয়ে কয়েক মিনিটেই ভিডিও বানানো যায়।
- ইনভিডিও: শক্তিশালী এআই ভিডিও নির্মাতা; টেক্সট-টু-ভিডিও ও নানা টেম্পলেট আছে।
- লুমেন৫: মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে লেখাকে আকর্ষণীয় ভিডিওতে রূপ দেয়।
- সিনথেশিয়া: ভিডিওতে এআই অ্যাভাটার ও উচ্চমানের এআই ভয়েসওভার দেয়।
- অ্যাডোবি প্রিমিয়ার রাশ: মোবাইল অ্যাপে এডিটিং ও টেম্পলেটসহ দ্রুত ভিডিও বানানোর ফিচার।
- চ্যাটজিপিটি: ওপেনএআই-এর এআই মডেল; টেক্সট-টু-স্পিচ দিয়ে ভয়েসওভার বানানো যায়।
- প্রোমো: নানা ভিডিও টেম্পলেট, মিউজিক, সাবটাইটেল, ফন্ট যোগের অপশন দেয়।
- অ্যানিমেকার: ওয়েবক্যাম রেকর্ডিং ও অনেক অ্যানিমেশনের এআই ভিডিও মেকার।
- বাইটেবল: সহজ ইন্টারফেসসহ প্রস্তুত অ্যানিমেটেড ভিডিও টেম্পলেট দেয়।
এআই প্রযুক্তি ভিডিও নির্মাণের ধরণই বদলে দিয়েছে; হাতের নাগালে থাকা এসব সফটওয়্যার আর টুল দিয়ে এখন নতুনরাও অনায়াসে মানসম্মত ভিডিও বানাতে পারেন।

