Read Aloud রিভিউ
আপনি যদি আর্টিকেল শুনে নিতে ভালোবাসেন বা ডিসলেক্সিয়া মতো শেখার পার্থক্য থাকে, তবে টেক্সট টু স্পিচ (TTS) সফটওয়্যার দারুণ সহায়ক হতে পারে। ছোটরা ছবি দেখে পড়তে শিখছে, বড়রা বাধ্যতামূলক বই পড়ছে, বা ঘরে পরিবারের একসাথে পড়া—সব কিছুর জন্যই এটা ভালো অ্যাড-অন। শিক্ষামূলক অডিওর জন্য শুধু অনলাইন ভিডিও বা মানানসই পডকাস্টের উপর নির্ভর না করে অন্য বিকল্পও পেয়ে যাবেন।
টেক্সট টু স্পিচ অ্যাপগুলো ওয়েবসাইট, ডিজিটাল ফাইল বা ফিজিক্যাল পেজের লেখা থেকে অডিও বানাতে সাহায্য করে। বাজারে নানা ধরনের TTS অ্যাপ আছে—যারা টেক্সট শুনে নিতে পছন্দ করেন, বা একেবারেই পড়তে পারেন না, তাদের জন্য এগুলো কাজের। এর মধ্যে Read Aloud নামে জনপ্রিয় এক Chrome ব্রাউজার এক্সটেনশন আছে। আরও জানতে পড়ে যান—Read Aloud-এর সুবিধা-অসুবিধা আর জনপ্রিয় বিকল্প নিয়ে জানুন।
Read Aloud: একটি টেক্সট টু স্পিচ ভয়েস রিডার
Read Aloud একটি ওপেন-সোর্স TTS সফটওয়্যার, যা Google Chrome ও Firefox এক্সটেনশন হিসেবে পাওয়া যায়। এই এক্সটেনশন দিয়ে Chrome ইউজাররা নিউজ সাইট, ব্লগ, অনলাইন কোর্সসহ নানান ওয়েবসাইট থেকে লেখা অডিওতে বদলে শুনতে পারেন। এখানে IBM Watson, Google Wavenet, Microsoft ও Amazon Polly-র ভয়েসে শোনার অপশন আছে। Read Aloud ৪০টির বেশি ভাষায় TTS সাপোর্ট করে।
Read Aloud-এর সুবিধা ও অসুবিধা
কয়েকটি কারণে Read Aloud TTS সফটওয়্যার হিসেবে বেশ আকর্ষণীয়। এই অ্যাপ PDF, Google Docs, ePub-সহ অনেক ধরনের ডকুমেন্টে কাজ করে। ভয়েস, স্পিড, পিচ ইচ্ছেমতো টিউন করা যায়। Microsoft, Amazon-এর প্রিমিয়াম ভয়েসও আছে। শর্টকাট আর প্লেব্যাক কির মাধ্যমে সহজে প্লে, পজ, ফরওয়ার্ড, রিওয়াইন্ড করা যায়। ফ্রি ভার্সনও রয়েছে।
তবে, কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। অনেক ইউজার মনে করেন ফ্রি ভয়েসগুলো বেশ robotic শোনায় এবং ভালো মানের প্রিমিয়াম ভয়েস পেতে হলে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হয়। সব আপগ্রেড ও ফিচার আনলক করতে প্রিমিয়াম ভার্সন কিনতেই হবে।
Read Aloud-এর বিকল্প TTS অ্যাপ
Read Aloud ভালো একটি টেক্সট টু স্পিচ টুল হলেও বাজারে আরও অনেক TTS অ্যাপ আছে। যারা টেক্সট শুনে নিতে চান, তাদের জন্য নানা অপশন মিলবে। এতগুলো অ্যাপের মধ্যে নিজের জন্য ঠিকঠাক TTS বেছে নিতে একটু খোঁজখবর করতেই হবে। চলুন, Read Aloud-এর কয়েকটি জনপ্রিয় বিকল্প নিয়ে কথা বলি।
Natural Reader
সহজ ব্যবহারযোগ্য হওয়ার কারণে এই অ্যাপ ভালো রিভিউ পায়। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১৫০+ TTS ভয়েস অপশন আছে। PDF, ওয়েবপেজ, ইমেইল, টেক্সট ফাইল ইত্যাদি স্পিচে রূপান্তর করা যায়। তবে, ফ্রি ভার্সনে ফিচার সীমিত। সব ফিচার আনলক করতে বছরে প্রায় $১০০ দিয়ে প্রিমিয়াম নিতে হবে।
Capti Voice
Capti Voice অ্যাপে প্রায় যেকোনো অনলাইন আর্টিকেল বা ডকুমেন্ট শুনে নেওয়া যায়। দারুণ ফিচার—আর্টিকেল সেভ করে পরে অফলাইনেও শোনা যায়। অ্যাপটি বেশ user-friendly, ব্যক্তিগত ব্যবহার ফ্রি। তবে, কাস্টমাইজেশন, প্রিমিয়াম ভয়েস আর প্ল্যান আলাদাভাবে কিনতে হয়। অনেক ভাষা সাপোর্ট করলেও ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষাগুলো ফ্রি নয়।
Snap & Read
পড়ায় সহায়ক এই টুলটি নানা টেক্সট ফাইল, ওয়েবপেজ, ছবি, PDF-কে ১০০+ ভাষায় স্পিচে বদলে পড়ে শোনায়। ফ্রি ট্রায়াল আছে, আর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট মাসে প্রায় $৪। ভয়েস সেটিংস কাস্টমাইজ করা যায়, তবে অনেকে মনে করেন ভয়েস বেশ robotic লাগে।
Speechify
Speechify এক অসাধারণ টেক্সট টু স্পিচ টুল, যেখানে শ্রোতারা নিজেদের মতো করে প্লেব্যাক সেটিং সাজিয়ে নিতে পারেন। Speechify-তে আর্টিকেল, PDF, ওয়েবসাইটসহ নানা কিছু অডিওতে বদলে ফেলা যায়। প্রায় যেকোনো ফাইল টাইপ ৩০+ ভাষায় স্বাভাবিক-শোনার স্পিচে রূপান্তর করা সম্ভব!
আরও অডিও শোনার উপায় খুঁজলে, Speechify-তে টেক্সট-অডিও রূপান্তরের নানান অপশন পাবেন। ফুল ভাষা ও ভয়েস সেটিংস আছে, স্পিডও বদলানো যায়।
অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (OCR) টেকনোলজির কারণে, ছবি ও স্ক্রিনশটের টেক্সটও AI পড়ে শোনাতে পারে।
বাজারে আছে বহু টেক্সট টু স্পিচ অ্যাপ, ব্যবহারকারীর ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী নানা ফিচার দিচ্ছে। আপনি যদি আর্টিকেল শুনে নিতে চান, বা যেকোনো টেক্সট অডিওতে বদলাতে চান—Speechify একবার ট্রাই করে দেখুন! এটি বাজারের সেরা টেক্সট টু স্পিচ অ্যাপগুলোর একটি, যেখানে আর্টিকেল বা যেকোনো টেক্সট শোনার অভিজ্ঞতা দারুণভাবে কাস্টমাইজ করা যায়। Speechify এখনই ট্রাই করুন!

