অনেকে আবার স্কুলে ফেরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন, আর এই বছর ভালো করতে চাইলে নিজেকেই সেরা অবস্থানে আনতে হবে। স্কুলের ক্যালেন্ডার দেখা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড় আর পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখা খুব জরুরি। আপনি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ বা স্নাতক যাই পড়ুন না কেন, বিষয়টা সবার জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। prank বা বিউটি হ্যাকের ভিডিওতে সময় নষ্ট না করে, পড়াশোনাকেই আগে রাখুন। আসছে স্কুল বছরের জন্য মাথায় রাখার সবচেয়ে দরকারি কিছু DIY স্কুল হ্যাক কী? টিকটকের মজার ভিডিও লিস্ট একটু সরিয়ে রাখুন, জানুন কয়েকটি বিশেষ টিপস।
নিয়মিত রুটিন মেনে চলুন
দারুণ স্কুল হ্যাক চাইলে সবার আগে নিয়মিত রুটিন মানতে হবে। রুটিন মানতে না পারলে পড়ায় পিছিয়ে পড়বেন। এটা বিজ্ঞান, গণিত বা শিল্প—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সহজ কিছু ক্রাফট, আর্ট ও পেইন্টিং হ্যাকও অনেক কাজে লাগতে পারে। সামনে কোন কোন পরীক্ষা আছে, তা ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন এবং আগেভাগেই পড়া শুরু করুন। সফলতার জন্য এগুলো খুবই দরকারি।
সকল সাহায্য নিন
নিজের চারপাশের সব ধরনের রিসোর্স কাজে লাগান। যেমন, প্যারেন্টিং হ্যাকগুলো দেখলে বোঝা যায়, বাড়তি সাহায্য নেওয়া স্কুলে সফলতার জন্য কতটা জরুরি। টিউটর প্রায় যেকোনো বিষয়ে সাহায্য করতে পারে, ভার্চুয়াল বা বাস্তব স্কুল—দুই জায়গাতেই। আর্টে সমস্যা হলে, টিউটরের কাছ থেকে কিছু ড্রইং টিপস নিন। কেমিস্ট্রিতে গড়মিল লাগলে, গত বছর কোর্স শেষ করেছে এমন কারো সঙ্গে কথা বলুন।
চেকলিস্ট তৈরি করুন
প্রতিদিনের কাজের একটা চেকলিস্ট বানান। চাইলে আবার পুরো সপ্তাহের জন্যও করতে পারেন। এতে কী করতে হবে তা নিয়ে আর গুলিয়ে যাবেন না। যেমন, মঙ্গলবার কেমিস্ট্রি টেস্ট আর বুধবার গণিত পরীক্ষার জন্য আগে থেকেই পড়ে নিন—একটার পর আরেকটার জন্য শেষ মুহূর্তে দৌড়াদৌড়ি করবেন না। এখনই চেকলিস্ট বানিয়ে আগেই পড়া শুরু করুন, এতে পড়াশোনা আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।
সময়ের আগেই কাজ করুন
এখন হাতে যদি একটু ফাঁকা সময় থাকে, ডান্সের মেকআপ নিয়ে ভাবার বদলে সামনে কখন খুব ব্যস্ত থাকবেন, সেটার কথা ভাবুন। সেই সময়ের কিছু কাজ এখনই সেরে ফেলুন, যাতে পরে হুট করে সব একসাথে গিলতে না হয়। প্রতিটি ক্লাসেই যদি একটু করে আগে থেকে কাজ করেন, বড় চাপ আর জমবে না, সফলও হবেন।
কাজের জায়গা ও খেলার স্থান আলাদা করুন
পড়ার সময় শুধু পড়াটাই মাথায় রাখুন, খাবার বা ক্যান্ডি চুরি করে খাওয়ার চিন্তা বাদ দিন। ফোন, টিভি, সামাজিক মাধ্যম পাশে না রাখাই ভালো। আর খেলাধুলা বা ফ্রি টাইমে নিজেকে পুরোটা ছেড়ে দিন—চাইলে সোশাল মিডিয়ার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলুন বা নতুন ভিডিও দেখুন। প্লে স্পেস আর পড়ার জায়গা আলাদা রাখলে, দুই দিকেই ভালো করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
মানসিক বিরতি নিন
অবশ্যই পড়াশোনায় মনোযোগ জরুরি, তবে মাঝেমাঝে মানসিক বিরতিও খুব দরকার। আমরা সবাই মানুষ, একটানা পড়া কেউই ধরে রাখতে পারি না। তাই কাজের তালিকা করুন, আর কখন কখন বিরতি নেবেন সেটাও লিখে রাখুন। কিছুক্ষণ পড়ার পর ১৫ মিনিট নতুন ভিডিও দেখুন। ফুড হ্যাক ভিডিও দেখুন, তারপর আবার পড়ায় ফিরে যান।
মনোযোগ বাড়ায় এমন গান শুনুন
গান শুনে যদি মনোযোগ বাড়ে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কোন ধরনের গান পড়তে সাহায্য করে, সেটা আগে খুঁজে বের করুন। খুব শব্দওয়ালা বা বিরক্তিকর গান এড়িয়ে চলুন। নরম সুরের গান কাজে দিতে পারে। আলাদা বিষয়ের জন্য আলাদা প্লেলিস্টও বানাতে পারেন—একটু নিজে ট্রাই করে দেখুন।
নিজের জন্য পুরস্কার দিন
স্কুল হ্যাক শিখলেও নিজের জন্য ছোটখাটো পুরস্কার ঠিক করে নিন। যেমন—১ ঘণ্টা পড়ে মক টেস্টে পাশ করলে নিজেকে ৩০ মিনিটের বিরতি দেবেন। এতে পড়ায় মন বসাতে সুবিধা হবে। আবার, রাতে ঘুমানোর আগে রিসার্চ পেপার লিখে শেষ করলে, নিজেকে নতুন কোনো সামাজিক ভিডিও দেখার অনুমতি দিন। এভাবে প্রণোদনা দিলে পড়াশোনার রুটিন মেনে চলা সহজ হবে, আর বাবা-মাও গর্ব করে বলবে, “আমার সন্তান সত্যিই পড়াশোনায় মনোযোগী!”
ঠিক সময়ে উঠে কাজ করুন
পড়ায় মনোযোগী থাকতে হলে যথেষ্ট ঘুম খুব জরুরি। একজন প্রাপ্তবয়স্কের রাতভর প্রায় ৮ ঘণ্টা ঘুম লাগে, টিনএজারদের দরকার আরও বেশি। সকালে ঠিকমতো উঠতে চাইলে রাতে ঠিক সময় ঘুমাতে যেতে হবে—তাহলেই মস্তিষ্ক থাকবে চাঙ্গা। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে, আগের রাত থেকেই নিজের প্রস্তুতি নিয়ে নিন।
নোট করে রাখুন
অনেকেই বই পড়ে মনে করেন সবই মনে থাকবে, কিন্তু আমাদের বেশিরভাগের স্মৃতি তেমন ভালো নয়। তাই পড়ার সময় নোট নিন। ভিজ্যুয়াল, অডিও আর হাতে-কলমে শিখলে তথ্য অনেক বেশি ধরে রাখা যায়। নোট গুছিয়ে রাখুন, প্রয়োজনে রঙ ব্যবহার করুন বা আলাদা আলাদা ভাগ বানান। চাইলে ৩ডি পেনও ব্যবহার করতে পারেন—এটা আপনাকে আরও গোছানো ফাইলিং সিস্টেম তৈরি করতে সাহায্য করবে। এটাও পড়ার জন্য দারুণ এক DIY আইডিয়া।
Speechify-এর মত অ্যাপ দিয়ে পড়া সহজ করুন
শেষে, পড়া আরও সহজ করতে পারেন প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপ দিয়ে। এরকম কাজে লাগানো যায় এমন অনেক অ্যাপ পাবেন। যেমন—কখন কোন কাজে কত সময় দিচ্ছেন সেটা ট্র্যাক করতে, বা পড়ার সময় কিছু নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ব্লক করতে সাহায্য করবে।
আরও কার্যকর হতে পারেন টেক্সট-টু-স্পিচ (TTS) অ্যাপ, যেমন Speechify দিয়ে। এটি স্ক্রিনের টেক্সটকে আপনাকে শোনাবে। ফলে, পড়ার নির্দেশিকা বা লেকচার শোনার পাশাপাশি অন্য কাজও করতে পারবেন। যারা চ্যাপ্টার শুনে নোট নিতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য তো বিশেষভাবে সহায়ক। বই আর খাতার মাঝে মন ভাগ করার বদলে, শুনতে শুনতেই লিখতে পারবেন।
Speechify ব্যবহারের মূল সুবিধাগুলো হলো:
- আপনি পড়ার স্পিড নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। চাইলে দ্রুত, চাইলে একটু ধীরে শুনতে পারবেন।
- এটি নানা ধরনের টেক্সট ও অডিও ফাইল চালাতে পারে। ফরম্যাটিং যেমনই হোক, Speechify সাধারণত ঠিকই চালিয়ে নিতে পারে।
- Speechify-এ আছে বহু ধরনের কণ্ঠস্বর। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী টোন, উচ্চারণ আর অ্যাকসেন্ট বদলাতে পারবেন।
- বিদেশি ভাষার ক্লাসেও এটি সাহায্য করতে পারে। প্রিমিয়াম ভার্সনে সঙ্গে সঙ্গেই অনুবাদের সুবিধা আছে, বিভিন্ন ভাষা শিখুন আরও সহজে।
Speechify ব্যবহারের এটাই কেবল সুবিধা নয়। পড়ার অভ্যাস আরও উন্নত করতে চাইলে, একটা পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি নিন আর তাতে Speechify হবে আপনার সহকারী। নিজের পড়ার কৌশল যাচাই করুন, আসন্ন শিক্ষাবর্ষের জন্য ঠিকঠাক গুছিয়ে নিন। তাহলে নিজেকে সফলতার এক ধাপ ওপরে তুলতে পারবেন।
FAQ
স্কুল হ্যাকস নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন হলো:
স্কুল লাইফ সহজ করতে কী করতে পারেন?
ক্লাসে গেলে ফোন সাইলেন্ট বা বন্ধ রাখুন। ফোনের কম্পনও খুব সহজেই মনোযোগ নষ্ট করে দিতে পারে। তথ্য ভালোভাবে বুঝতে চাইলে, বাড়তি সব ধরনের বিঘ্ন যতটা পারেন দূরে রাখুন।

