অনেকেই অডিওবুক ভালোবাসে। তাদের কাছে, গাড়িতে ভ্রমণের সময় বই শোনার জন্য অডিওবুক খুব সহজ উপায়, আবার কেউ কেউ অডিওবুক ভালবাসে কারণ তাদের জন্য মুদ্রিত বই পড়াটা কঠিন।
অন্যদিকে, অনেকেই অডিওবুক পছন্দ করেন না। এটা একেবারেই স্বাভাবিক — অডিওবুক না পছন্দ করারও বেশ কিছু যুক্তিসংগত কারণ আছে। জানতে চান কেন অনেকেই অডিওবুক অপছন্দ করেন? আমরাও ভেবেছি ঠিক তা-ই। কারণগুলো জানতে পড়ে যান।
মানুষ অডিওবুক কেন অপছন্দ করে
১. অডিওবুকে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন
অডিওবুকের সবচেয়ে সাধারণ অভিযোগ হলো এতে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। এটি নন-ফিকশন হোক বা বন্ধুর প্রিয় গল্প, সবাই তথ্য গ্রহণ করে আলাদা উপায়ে। কেউ ভিজ্যুয়াল, কেউ অডিও লার্নার। আপনি অডিও লার্নার না হলে এর বর্ণনায় মনোযোগ রাখা কঠিন হবে। এমন হলে, মুদ্রিত কপি বা কিন্ডল আপনার জন্য বেশি মানানসই হতে পারে।
২. অডিওবুক শোনা প্রতারণার মতো মনে হয়
অনেকেরই মনে হয় অডিওবুক শোনা যেন একটু প্রতারণা। নতুন বই এলে সেটির মুদ্রিত কপি হাতে নিয়ে, চোখ বুলিয়ে গল্পে ডুবে যাওয়ার আলাদা মজা আছে। অনেক পাঠকের কাছে Audible বা অন্য অডিও প্লাটফর্মে শুনলে সেই অনুভূতি আসে না। যদি আপনারও মনে হয় পডকাস্ট শোনাটাও যেন একটু চিটিং— আপনি একা নন। এমন লাগলে, সাধারণ বই বা ই-রিডারেই থাকা ভালো।
৩. অডিওবুকের দাম বেশি
অডিওবুক সত্যিই বেশ দামি হতে পারে। প্রায়ই অডিওবুকের দাম বেশি পড়ে, কারণ পুরো বইটা কেউ বসে পড়ে শোনান— সেটার পেছনে খরচ আছে। অনেক সময় বিশেষ ভয়েস অভিনেতা রাখা হয়, বিশেষ করে সাই-ফাইয়ের মতো ঘরানায়। টাকাপয়সা বাঁচাতে চাইলে সাধারণ মুদ্রিত কপিই অনেক সময় ভালো বিকল্প।
৪. সহজে ঘুমিয়ে পড়ে
আবার অনেকেই অডিওবুক শুনতে শুনতে চোখ লেগে যায়। যেমন, কেউ স্কুলের ক্লাসে একদম মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারে, কেউ পারে না— তেমনি অডিওবুক শুনে ঘুমিয়ে পড়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়। আপনার ক্ষেত্রে হয়তো মুদ্রিত বই পড়াই আপনাকে বেশি জাগিয়ে রাখবে।
৫. উদ্ধৃতি সংরক্ষণ করা কঠিন
মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্পে প্রিয় লাইনগুলো তুলে রাখার সুযোগ অডিওবুকে অনেক কম। বারবার রিওয়াইন্ড করেও টেক্সট হাইলাইট বা আন্ডারলাইন করার মতো তৃপ্তি আসে না। লেখক, ব্লগার বা শিক্ষক যারা উক্তি তুলে রাখেন, তাদের জন্য এটা বড় ঝামেলা। আপনি যদি বই থেকে উক্তি জমিয়ে রাখতে চান, তবে মুদ্রিত কপি হাতে থাকাই ভালো।
৬. বর্ণনাকারী রোবটের মতো শোনায়
আরেকটি প্রচলিত অভিযোগ হলো বর্ণনাকারীর কণ্ঠ রোবটের মতো শোনায়। ভালো গলা আর ঠিকঠাক উপস্থাপনা অডিওবুকের মান অনেকটাই বদলে দেয়। যেমন, সাই-ফাই বইয়ের ন্যারেটর আর সেল্ফ-হেল্প বইয়ের ন্যারেটরের অভিজ্ঞতায় তো পার্থক্য থাকবেই। কণ্ঠ ভালো না লাগলে, সোজা মুদ্রিত কপিতে ফিরে যাওয়াই সহজ সমাধান।
চাইলেই এখনই এই ব্লগ পোস্টটাকেই অডিওবুকে বদলে শুনে দেখতে পারেন — শুধু উপরে থাকা নীল "Listen to this story" বোতামে ক্লিক করুন। Speechify টেক্সট-টু-স্পীচ এর মাধ্যমে যেকোনো ওয়েবসাইটের লেখা অডিওতে রূপান্তর করে। Speechify–এর কণ্ঠগুলো একঘেয়ে রোবোটিক নয়, বরং বেশ স্বাভাবিক ও মানবসুলভ। ইচ্ছে হলে অপশন ঘুরে দেখুন!
৭. প্রিয় গান শোনা ছেড়ে দিতে হয়
নিউ ইয়র্ক সাবওয়েতে যাতায়াত হোক, কিংবা পরিবার নিয়ে দীর্ঘ ড্রাইভ — অনেকেই গাড়িতে অডিওবুক শোনেন। কিন্তু একই জায়গা আবার গানের প্লেলিস্টেরও প্রিয় সময়। আপনি যদি গানপ্রেমী হন, তবে অডিওবুকের জন্য সে সময়টা ছাড়তে হতে পারে। পডকাস্ট শোনাও কমে যায়। যারা গান বা পডকাস্টে মগ্ন থাকতে ভালবাসেন, তাদের কাছে অডিওবুক খুব একটা জমে না।
৮. ন্যারেটর বই বোঝায় প্রভাব ফেলে
বই পড়ার এক মজা হলো— গল্পটা আপনি নিজের মতো করে বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে পারেন। কিন্তু ন্যারেটরের স্টাইল, গতি আর স্বর অনেক সময় পুরো ব্যাখ্যাতেই প্রভাব ফেলে। ফলে নিজের ভাবনার ভেতরও অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি ঢুকে পড়ে। আপনি যদি একেবারে নিজের মতো করে গল্প ধরতে চান, তবে অডিওবুক এড়িয়ে চলাই যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে।
৯. কল্পনার ছবি তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়
প্রথমবার বই পড়ার সময় চরিত্রের চেহারা, কণ্ঠ, ভঙ্গি— সবকিছুই মাথার ভেতর নিজের মতো করে গড়ে ওঠে। অডিওবুকে অনেকটাই আগেভাগেই সেট হয়ে যায়; ন্যারেটরের কণ্ঠ, উচ্চারণ আর আবেগেই যেন চরিত্রের চেহারা ও স্বভাব বেঁধে যায়। এটা এড়িয়ে চলতে চাইলে, মুদ্রিত বই পড়াই বরং অনেকের কাছে আরামদায়ক।
১০. স্বাস্থ্যগত সমস্যা বাধা দেয়
কিছু শারীরিক বা স্নায়বিক অবস্থার কারণে অনেকের জন্য অডিওবুক ঠিকমতো বোঝা কঠিন হয়। যেমন, কেউ যদি Central Auditory Processing Disorder–এ ভোগেন, তারা অন্যদের মতো করে অডিও থেকে তথ্য ধরতে পারেন না। সেই কারণেই বিশেষ পরিস্থিতিতে অডিওবুক সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে।
অনেকে Libby ও OverDrive দিয়ে তাদের TBR লিস্ট (“to-be-read”) কমিয়ে আনেন, কিন্তু এই পথ সবার জন্য না-ও হতে পারে। আবার, ডিসলেক্সিয়া বা ভাষাগত সমস্যার জন্য অনেকেই অডিওবুক বেছে নেন— তাদের জন্য অডিওবুকই পড়া অনেক সহজ করে দেয়।
যাঁরা অডিওবুক অপছন্দ করেন
একজন পাঠক হিসেবে অডিওবুকের বদলে মুদ্রিত বই পছন্দ করাটা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি ক্লাসিক পড়া বা শুধু বেস্টসেলার তাড়া করাটাও স্বাভাবিক। শুধু অডিওবুক পছন্দ না করলেই কেউ খারাপ পাঠক হয়ে যান না। নতুন পড়ার আনন্দ খুঁজতে চাইলে Speechify, Goodreads বা Scribd ব্যবহার করে দেখতে পারেন। জানতে চান কোনো পাঠক কেন অডিওবুক পছন্দ করেন? আমাদের অডিওবুকের সুফল নিয়ে আগের লেখাটাও একবার দেখে নিন।
প্রশ্নোত্তর
অডিওবুক নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত কিছু প্রশ্ন হলো:
১. অডিওবুকের অসুবিধা কী?
কিছু অসুবিধা আছে। অনেকে নিজের মতো করে চরিত্র কল্পনা করতে পারেন না, বা গল্পের গতি ন্যারেটর ঠিক করে দেয় বলে সেটি তাঁদের ভালো লাগে না।
২. মানুষ কেন অডিওবুক খাটো চোখে দেখে?
কেউ কেউ মনে করেন Audible–এ শুনে বই শেষ করা যেন একটু প্রতারণা, কারণ এতে নিজে শব্দ পড়া হয় না— অডিওবুকে অন্য কেউ সেই কাজটা করে দেন।
৩. অডিওবুক কি সাধারণ বইয়ের চেয়ে ভালো?
কিছু মানুষের কাছে, হ্যাঁ। যেমন, ডিসলেক্সিয়ায় লিখিত শব্দ পড়তে কষ্ট হয়— তাদের জন্য শোনা অনেক সহজ। আবার কেউ মুদ্রিত কপিতেই বেশি আনন্দ পান— যেমন বুকমার্ক গুঁজে পড়া, পাতায় দাগ টানা ইত্যাদি।
৪. মানুষ কেন মনে করে অডিওবুক অলসদের জন্য?
যদিও আসলে তা নয়, তবু কেউ কেউ মনে করেন অডিওবুক নাকি অলসদের জন্য, কারণ এখানে নিজে চোখ দিয়ে পড়তে হয় না, ন্যারেটর সবটা শুনিয়ে দেন।
৫. অডিওবুক শোনার সবচেয়ে ভালো উপায় কী?
অডিওবুক শোনার নির্দিষ্ট একটাই ঠিক ফর্মুলা নেই। তবে অনেকেই গাড়িতে চলার পথে, হাঁটতে হাঁটতে, বা ঘর পরিষ্কার করতে করতে শুনতে ভালোবাসেন।
৬. মানুষ অডিওবুক নিয়ে কী ভাবে?
অনেকে অডিওবুক দারুণ পছন্দ করেন, কারণ এতে সুবিধা বেশি, বিশেষ করে একই বই বারবার শুনে নেওয়ার ক্ষেত্রে। আবার কেউ ন্যারেটরে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারায় ভেবেই বসেন, অডিওবুক তাঁদের জন্য না।
৭. অডিওবুক কি প্রচলিত পড়ার চেয়ে ভালো?
এটা পুরোপুরি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় — নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। কেউ ন্যারেটরের কণ্ঠে গল্প শুনে বেশি মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন, আবার কেউ বই হাতে নিয়ে চোখে দেখে পড়লেই বেশি তৃপ্তি পান।

