উইলবার স্মিথ বইসমূহ ধারাবাহিকভাবে
উইলবার স্মিথ একজন দুর্দান্ত জাম্বিয়া-জন্ম লেখক ও অভিযাত্রী। নিজের জীবনের নানান ভ্রমণ আর অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি গল্পের অনুপ্রেরণা নিতেন। তার লেখার জগতে ঢুকতে চাইলে, নিচে তার বই সিরিজ ও স্বতন্ত্র বইগুলো সঠিক প্রকাশক্রমে সাজানো আছে।
উইলবার স্মিথ সিরিজ অনুসারে বইসমূহ
নিচে আমরা উইলবার স্মিথ-এর বইয়ের তালিকা দিচ্ছি। প্রতিটি সিরিজের বইগুলো প্রকাশের ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।
দ্য কোর্টনি সিরিজ
- When the Lion Feeds (১৯৬৪): সহিংস ঘটনার পর শন দক্ষিণ আফ্রিকার জঙ্গলে নির্বাসিত হয়। সেখানে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলে, বন্ধু পায়, আর স্বর্ণ আহরণে ধনী হয়।
- The Sound of Thunder (১৯৬৬): দ্বিতীয় বোয়ের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পরিবারে নেমে আসে ট্র্যাজেডি। শন জঙ্গল থেকে ফিরে এসে পরিবারের দ্বন্দ্ব সামাল দেয়।
- A Sparrow Falls (১৯৭৭): শন ফ্রান্সের ট্রেঞ্চে বীরত্ব দেখিয়ে খ্যাতি পায় ও সরকারে জায়গা পায়। তার ছেলে ডার্ক-এর হিংস্রতা আর ঈর্ষা শেষ পর্যন্ত রক্তপাতই ডেকে আনে।
- The Burning Shore (১৯৮৫): মাইকেল কোর্টনি আর এক ফরাসি অ্যারিস্টোক্র্যাটের আবেগপূর্ণ সম্পর্ক তাদের সন্তানকে নিয়ে আফ্রিকায় আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য করে।
- Power of the Sword (১৯৮৬): কোর্টনি ভাইয়েরা আফ্রিকায় বড় হয়, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে দুই পক্ষে ভাগ হয়ে দাঁড়ায়। সংঘাত গড়ে তোলে পুরো এক দেশের ভবিষ্যৎ।
- Rage (১৯৮৭): শাসা কোর্টনি ভয়াবহ সত্য জেনে যায়, আর দেশ গৃহযুদ্ধের কিনারায় দাঁড়ায়।
- A Time to Die (১৯৮৯): এক নারী আর দুই পুরুষের শিকার-ভ্রমণ নিরাপদ সাফারি ভেঙে আফ্রিকার গৃহযুদ্ধে গড়ায়। শন ভালোবাসা আর প্রতিরোধ দুটো নিয়েই লড়ে।
- Golden Fox (১৯৯০): যুদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে। কোর্টনি পরিবারের বন্ধন চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখে, পরিবারের এক সদস্য অন্ধকার পথে হারিয়ে যায়।
- Birds of Prey (১৯৯৭): ইংল্যান্ড–নেদারল্যান্ড যুদ্ধ তীব্র হয়। বিশ্বাসঘাতকতার এমন কাহিনি, যেখানে অনেকেই আর কোনোদিন বাড়ি ফিরে না।
- Monsoon (১৯৯৯): হাল কোর্টনি তার ছেলেদের নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সহায়তা করতে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে সমুদ্রে নামে।
- Blue Horizon (২০০৩): কোর্টনিরা দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন জীবন শুরু করে। প্রাণঘাতী পশু আর যুদ্ধরত উপজাতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে তারা টিকে থাকার লড়াই লড়ে।
- The Triumph of the Sun (২০০৫): এক ব্রিটিশ জেনারেল ও তার ভালোবাসার মানুষ লড়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে, যারা নীলনদের দখল নিয়ে ইংরেজদের সেখান থেকে তাড়াতে চায়।
- Assegai (২০০৯): লিওন কোর্টনি হয়ে ওঠে আফ্রিকার সেরা শিকারিদের একজন। Assegai বইয়ে সে জনপ্রিয়তার আসল মূল্য শিখতে থাকে।
- Golden Lion (২০১৫): ১৭শ শতকের ইথিওপিয়ায় মুসলিম হামলাকারীদের ওপর খ্রিস্টান বিজয়ের পর, হালকে প্রতিশোধে উন্মত্ত এক শত্রুর মুখোমুখি হতে হয়।
- War Cry (২০১৭): War Cry বইয়ে ফোকাস থাকে লিওন ও তার মেয়ে স্যাফরনের ওপর, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।
- The Tiger’s Prey (২০১৭): ১৮শ শতকের কাহিনিতে টম কোর্টনি আবার ফিরে আসে, সাগর পেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নামে (উইলবার স্মিথ ও টম হারপার)।
- Courtney’s War (২০১৮): স্যাফরন আর গারহাড আলাদা দেশে বসে বাঁচার জন্য লড়ে। WWII-তে গারহাড জার্মানির হয়ে যুদ্ধ করে, স্যাফরন যায় বেলজিয়ামে। তবু মিলনের আশা তারা ছাড়ে না।
- King of Kings (২০১৯): পেনরড ও অ্যাম্বারের প্রেম, পেনরডের প্রাক্তন সঙ্গীর ঈর্ষায় ভেঙে পড়ার উপক্রম। সব বাধা পেরিয়ে তারা আবার এক হতে চায়।
- Ghost Fire (২০১৯): ১৭৫৪ সালের ভারতে কনি ও থিয়ো কোর্টনি জন্ম থেকে অবিচ্ছেদ্য। একসময় একজন ফ্রান্সে যায়, অন্যজন ব্রিটেনের হয়ে লড়ে। শেষমেশ ভাগ্য আবার তাদের মুখোমুখি করায়।
- Legacy of War (২০২১): হিটলার শেষ, তবু তার উত্তরাধিকার টিকে থাকে। স্যাফরন ও গারহাড নিরাপদ নয়; কেনিয়ায় তাদের বাড়ি আক্রমণের মুখে, মুক্তির লড়াইই একমাত্র ভরসা।
- Storm Tide (২০২২): কোর্টনি পরিবারের তিন প্রজন্ম বিপরীত শিবিরে লড়াই করে। বইটি টুকরো টুকরো হওয়া পরিবার আর অস্থির বিপ্লবমুখী দেশের ভাগ্য তুলে ধরে।
- Nemesis (২০২৩): Nemesis উপন্যাসে ১৭৯৪ সালের প্যারিসে কোর্টনি পরিবারের তিন দিক থেকে প্রতিশোধের কাহিনি উঠে আসে।
জ্যাক কোর্টনি সিরিজ
- Cloudburst (২০২০): জ্যাক তার বাবা-মাকে খুঁজে পেতে এবং কঙ্গোতে বাবার ভাইয়ের নোংরা কাজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লড়াই করে।
- Thunderbolt (২০২১): জ্যাক, জ্যান্ডার আর অ্যামেলিয়া মিলে জাঞ্জিবারে হারিয়ে যাওয়া ধন খুঁজতে নামে।
- Shockwave (২০২২): জ্যাক, তার বন্ধু ও কাজিন ক্যালেবকে নিয়ে আর্কটিক অভিযানে যায়, কিন্তু পেছনের দাতাদের রহস্যময় আচরণ তার সন্দেহ আরও ঘন করে তোলে।
দ্য ব্যালেন্টাইনে সিরিজ
- A Falcon Flies (১৯৮০): রবিন ও মরিস ১৮৬০ সালে নিখোঁজ বাবাকে খুঁজতে আফ্রিকায় ফেরে; তাদের হাতে থাকা মানচিত্র এক উন্মাদ মানুষের আঁকা।
- Men of Men (১৯৮১): উনবিংশ শতকের আফ্রিকায় সভ্যতার সংঘাত আর প্রজন্মের টানাপোড়েনের চমৎকার বর্ণনা।
- The Angels Weep (১৯৮২): আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গরা দুই ভয়াবহ যুদ্ধে—দ্বিতীয় মাতাবেলি ও রোডেশিয়ার বুশ ওয়ারে জড়িয়ে পড়ে; শান্তির আশা জাগতেই নতুন সংকটের আভাস দেখা দেয়।
- The Leopard Hunts in Darkness (১৯৮৪): ক্রেইগ ফিরে আসে সেই আফ্রিকায়, যেখানে সে অঙ্গ হারিয়েছিল। জিম্বাবুয়ের ভবিষ্যৎ ঠিক করার দায়িত্ব পায়, শেষ পর্যন্ত রক্তের টানে হার মানতে থাকে।
- The Triumph of the Sun (২০০৫): এক ব্রিটিশ জেনারেল আর এক সুন্দরী নারীর শেষ লড়াই, ধর্মীয় যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে।
- King of Kings (২০১৯): পেনরড ও অ্যাম্বার বিচ্ছেদের পর আবার এক হওয়ার পথ খুঁজে; অভিযাত্রা যায় কায়রো থেকে আদ্দিস আবাবা, সেখান থেকে আবিসিনিয়ার গভীরে।
- Call of the Raven (করবান অ্যাডিসনের সহলেখনায়) (২০২০): অগাস্টাস মাঙ্গো সেন্ট জন স্বজন হারিয়ে প্রতিশোধের অগ্নিতে নামে, ক্রীতদাস আর বৈষম্যে ভরা এক নিষ্ঠুর দুনিয়ায়।
দ্য প্রাচীন মিশর সিরিজ
- River God (১৯৯৩): বীর যোদ্ধা ট্যানাস ঈর্ষণের কারণ সেই রূপবতী লস্ট্রিসকে পেতে মিশরীয় দেবতাদের চ্যালেঞ্জ জানায়।
- The Seventh Scroll (১৯৯৫): মমোস যখন ফেরাউনের সমাধির ক্লু-ভরা বার্তা উদ্ধার করে, তখন রয়ান খুনিদের হাত থেকে পালাতে বাধ্য হয়।
- Warlock (১৯৯৫): দুই ফেরাউন মিশরের ওপর ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইলে দম্ভ আর রক্তপাত চরমে ওঠে, শহরের দুয়ারেই দাঁড়ায় চূড়ান্ত লড়াই।
- The Quest (২০০৭): Quest বইয়ে মিশরে ভয়াবহ মহামারী ছড়ায়, নীলনদ শুকিয়ে যায়। রহস্যের কারণ খুঁজতে তাইটাকে পাঠানো হয়।
- Desert God (২০১৪): তাইটা ষড়যন্ত্র, আবেগ আর চরম বিপদের মধ্যে দিয়ে হাইকসসদের বিরুদ্ধে লড়ে মিশর আর ক্রেটের জোট গড়তে চায়; পথ যায় আরবিয়া থেকে বাবিলন পর্যন্ত।
- Pharaoh (২০১৬): ফেরাউন আহত, লাক্সর অবরুদ্ধ। তাইটা সেনা প্রস্তুত করে। পুরনো এক বন্ধু ফিরে এসে মিশরকে রক্ষা করে, কিন্তু তাইটার গায়ে বিশ্বাসঘাতকতার দাগ জুড়ে যায়। এক নতুন যুগের সূচনা হয়।
- The New Kingdom (২০২১): লাহুন শহরে নতুন ষড়যন্ত্র পাক খায়। হুই-এর সৎমা ইসেটনেফ্রেট ক্ষমতা দখল করে নেয়। এখন নিজের জোরেই মিশরের জন্য লড়তে হয় হুইকে।
- Titans of War (২০২২): হাইকসসরা দশকের পর দশক ধরে মিশরকে ধ্বংস করেছে। তাইটা আরও ক্ষমতাশালী হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে; পুরো রাজ্যের ভাগ্য ঝুলে থাকে সামান্য এক সুতোয়।
হেক্টর ক্রস সিরিজ
- Those in Peril (২০১১): হ্যাজেল ব্যানক, ব্যানক অয়েল কর্পোরেশনের উত্তরাধিকারী, সোমালিয়ার জলদস্যুরা ইয়ট দখল করে তার মেয়েকে অপহরণ করলে, কায়লাকে উদ্ধারে মরিয়া হয়ে ওঠে।
- Vicious Circle (২০১৩): হেক্টর ক্রস শান্ত জীবন চেয়ে হ্যাজেলকে বিয়ে করে; কিন্তু পুরনো শত্রু ফিরে আসতেই আবার শুরু হয় মৃত্যুঝুঁকির খেলা।
- Predator (টম কেইনের সাথে) (২০১৬): হেক্টরের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়, আর দুই দোষীর মধ্যে একজন এখনো বেঁচে। সেই মানুষটাকে শেষ করতে হেক্টর আর মার্কিন সরকার দু’পক্ষই বদ্ধপরিকর।
স্বতন্ত্র উপন্যাস
- The Dark of the Sun (১৯৬৫): ব্রুস কারি বিদ্রোহীদের অবরোধে পড়া এক আফ্রিকান শহর উদ্ধারে অক্লান্ত চেষ্টা চালায়; যাত্রাটা দ্রুতই দুঃস্বপ্নে গিয়ে ঠেকে।
- Shout at the Devil (১৯৬৮): আফ্রিকার দুই দাপুটে শিকারি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে কুখ্যাত যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসে হাত মেলায়।
- The Eye of the Tiger (১৯৭৪): উত্তেজনাপূর্ণ এক অভিযান পাঠককে নিয়ে যায় শান্ত ভারত মহাসাগরের দ্বীপে, যেখানে হ্যারি ফ্লেচার অতীতের ভূতে আতঙ্কিত হয়ে বেঁচে থাকে।
- Delta Decision (Wild Justice on GoodReads) (২০০১): এক সুন্দরী নারী আর এক নির্মম পুরুষের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব; বিশ্বাসঘাতকতা, সাহস আর প্রেম–ঘৃণার টানটান থ্রিলার।
- Gold Mine (২০০৬): কারও কাছে স্বর্ণখনি জীবন, কারও কাছে শুধু ব্যবসা; কিন্তু রড আয়রনসাইডের চোখে এটা সবচেয়ে রক্তাক্ত আর ঝুঁকিপূর্ণ খেলা।
- Cry Wolf (২০১৮): ১৯৩০-এর দশকের আফ্রিকায় যুদ্ধঘেরা থ্রিলার, যেখানে এক টেক্সান, এক মার্কিন রিপোর্টার আর এক ইংরেজ মিলে ইথিওপীয়দের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- The Diamond Hunters (২০১৮): বেনেডিক্ট একটাই লক্ষ্য দেখছে—সৎভাই জনিকে ধ্বংস করা। কিন্তু বোন জনিকে ভালোবাসে, আর সমুদ্রতটে ডায়মন্ড খনির ছাড়ও দেয় তাকে। তবু নিজের বদলা ছাড়তে নারাজ বেনেডিক্ট।
- Elephant Song (২০১৮): ডাঃ ড্যানিয়েল, আফ্রিকার বন আর বন্যপ্রাণের একনিষ্ঠ রক্ষক, বন্ধুর হত্যার প্রতিশোধে মাঠে নামে।
- The Sunbird (২০১৯): ডঃ বেন কাজিনের ধারণা, বত্সোয়ানার পাহাড়ের মাঝে লুকিয়ে আছে এক হারিয়ে যাওয়া শহর। স্থানীয় উপজাতিরা এই বড় আবিষ্কারে পাশে দাঁড়ায়।
- Eagle in the Sky (২০১৯): দক্ষ এক পাইলট এক ইসরাইলি লেখিকাকে জয় করার চেষ্টা করতে গিয়ে সেনাবাহিনীতে নাম লেখায়; কিন্তু তার সেই সিদ্ধান্তের মূল্য হয় ভীষণ চড়া।
- Hungry as the Sea (২০১৯): দক্ষিণ আটলান্টিকের বরফাচ্ছন্ন সমুদ্রে এক ব্যক্তির বেঁচে থাকা আর মুক্তির তীব্র লড়াই।
অপ্রবন্ধ
On Leopard Rock (২০১৮) উইলবার স্মিথ-এর প্রথম বড় অপ্রবন্ধ, যেখানে তার কল্পকাহিনীর নেপথ্যে থাকা বাস্তব ঘটনাগুলো নিজের ভাষায় তুলে ধরেছেন।
Speechify-এ রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার অডিওবুক খুঁজুন
উইলবার স্মিথ-এর লেখা আর অন্যান্য অ্যাডভেঞ্চার অডিওবুক শুনতে চান? তাহলে Speechify চেষ্টা করে দেখুন। এই টেক্সট-টু-স্পিচ প্ল্যাটফর্মে আছে ৭০,০০০+ শিরোনাম, অ্যাডভেঞ্চারসহ নানান ঘরানার। আরও জানতে ভিজিট করুন Speechify Audiobooks, আর সাইন আপ করলেই প্রথম অডিওবুক পাবেন একদম ফ্রি।
প্রশ্নোত্তর
উইলবার স্মিথের লেখা শেষ বই কোনটি?
Storm Tide-ই হচ্ছে উইলবার স্মিথের লেখা শেষ বই।
উইলবার স্মিথ প্রথম বই কবে লিখেছিলেন?
উইলবার স্মিথ তার প্রথম বই When the Lion Feeds ১৯৬৪ সালে লিখেছিলেন।

