বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে নানা ধারার লাখো ভিডিও রয়েছে। এসব ভিডিও দেখা সহজ, তবে অনেক সময় বিভিন্ন ইউটিউব ভিডিও একত্র করতে চাইতে পারেন, যেমন টিউটোরিয়াল, গানের প্লেলিস্ট বা আপনার পছন্দের ভিডিওর দীর্ঘ সংস্করণ বানাতে।
এই লেখায় দেখবেন কীভাবে উইন্ডোজ, ম্যাক, আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডে অনলাইন টুল আর সফটওয়্যার দিয়ে ইউটিউব ভিডিও একত্র করা যায়। সঙ্গে শীর্ষ ৮টি ভিডিও মার্জার টুল সম্পর্কেও জানবেন।
ইউটিউব ভিডিও একত্র করবেন কীভাবে
ইউটিউব ভিডিও একসঙ্গে করে নতুন ভিডিও বানাতে এমন একটি ভিডিও এডিটর লাগবে, যা MP4, AVI, MOV, WMV ইত্যাদি ফরম্যাট সাপোর্ট করে। সাধারণত ভিডিও ডাউনলোড, ইম্পোর্ট, সাজানো, ট্রানজিশন আর এক্সপোর্ট—এই ধাপগুলোই করতে হয়।
অনলাইনে অনেক ফ্রি ভিডিও এডিটর দিয়ে ইউটিউব ভিডিও একত্র করা যায়। তবে বেশিরভাগ ফ্রি ভার্সনে এক্সপোর্ট করা ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক থেকে যায়।
ইউটিউব স্টুডিওতে আগে ভিডিও মার্জ করার ফিচার ছিল, কিন্তু সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে ইউটিউব এই অপশন সরিয়ে নিয়েছে।
দুই বা তার বেশি ভিডিও একসঙ্গে করা ভিডিও এডিটরদের কাছে সাধারণ কাজ, আর সঠিক টুল থাকলে আপনিও অনায়াসে করতে পারবেন। ধাপগুলো নিচে দেয়া হলো:
১. ভিডিও ডাউনলোড করুন: আগে ইউটিউব থেকে মার্জ করতে চাওয়া ভিডিওগুলো ClipConverter বা Y2Mate-এর মতো অনলাইন টুল দিয়ে ডাউনলোড করুন। কপিরাইট ভাঙা এড়াতে ভিডিও ডাউনলোডের অনুমতি আছে কিনা আগে নিশ্চিত হোন।
২. ভিডিও এডিটর নির্বাচন: ভিডিও ফাইল নামিয়ে নিলে Adobe Premiere Pro, iMovie, InVideo, Filmora, Clideo, Kapwing, VLC Media Player বা VideoProc-এর মতো যেকোনো ভিডিও এডিটর বেছে নিন।
৩. ভিডিও ইম্পোর্ট করুন: টুল বাছাই হয়ে গেলে সফটওয়্যারে ভিডিও ইম্পোর্ট করুন। সাধারণত "Add File" বা "Import" বোতামে ক্লিক করে আপনার স্টোরেজ থেকে ফাইল সিলেক্ট করতে হয়।
৪. ভিডিও সাজান: নিজের মতো করে ভিডিওগুলোর অর্ডার ঠিক করে নিন। বেশিরভাগ এডিটরে ক্লিপ ধরে টেনে টাইমলাইনে বসিয়ে দিতে হয়।
৫. ভিডিও এডিট করুন: ভিডিও সাজানো হলে, প্রয়োজনমতো দৈর্ঘ্য কাটুন, রিসাইজ করুন, বা ক্লিপগুলোর কাট মিলিয়ে নরমাল রাখতে ট্রানজিশন ব্যবহার করুন।
৬. বাড়তি ফিচার যোগ করুন: যে এডিটর ব্যবহার করছেন, সেটা অনুযায়ী টেক্সট, অ্যানিমেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা সাবটাইটেলও যোগ করতে পারবেন।
৭. ভিডিও এক্সপোর্ট: সব সম্পাদনা শেষ হলে "Export" এ ক্লিক করে ভিডিও এক্সপোর্ট করুন। চাইলে পছন্দমতো ভিডিও ফরম্যাট (MP4, AVI, MOV, WMV) বেছে নিতে পারেন।
ফ্রি সফটওয়্যার হিসেবে ম্যাক ও আইওএসের জন্য iMovie, VLC Media Player, বা অনলাইনে Clideo, Kapwing ব্যবহার করে দেখতে পারেন। মনে রাখবেন, বেশিরভাগ ফ্রি টুলে ওয়াটারমার্ক বা ভিডিওর দৈর্ঘ্যে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
ইউটিউব ভিডিও একত্র করার প্রক্রিয়াটাও আগের ধাপগুলোর মতোই। শুধু আগে দরকারি ভিডিওগুলো ডাউনলোড করতে হবে এবং কপিরাইটের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
দুইটি ভিডিও জোড়া লাগিয়ে একটি নতুন ভিডিও বানাতে ওপরের ধাপগুলো অনুসরণ করে ভিডিও মার্জ করে তারপর এক্সপোর্ট করুন।
সংক্ষেপে, ইউটিউব বা অন্য যেকোনো সূত্রের ভিডিও মার্জ করা সঠিক টুল ব্যবহার করলে মোটামুটি সহজ কাজ। শুধু কপিরাইট মানুন আর প্রয়োজনে আগে থেকেই অনুমতি নিয়ে নিন।
ইউটিউব ভিডিও মার্জের সেরা ৮টি সফটওয়্যার/অ্যাপ
- Adobe Premiere Pro: উইন্ডোজ ও ম্যাকের জন্য প্রফেশনাল ভিডিও এডিটর। বহু ফরম্যাট, ট্রানজিশন, অ্যানিমেশন, সাবটাইটেল, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সাপোর্ট করে। ফ্রি নয়, ট্রায়াল আছে।
- iMovie: ম্যাক ও আইওএসে ফ্রি এডিটর। ভিডিও একত্র, ট্রিম, রিসাইজ, ট্রানজিশন, টেম্পলেট, অডিও যুক্ত করতে পারবেন।
- InVideo: অনলাইন এডিটর; মার্জ, ট্রিম, ট্রানজিশন যোগ করা যায়। নানান ফরম্যাট ও উচ্চমানের এক্সপোর্ট সাপোর্ট করে। ফ্রি ভার্সনে ওয়াটারমার্ক থাকে।
- Filmora: উইন্ডোজ, ম্যাক, অ্যান্ড্রয়েড, আইফোনে ভিডিও একত্র, ট্রানজিশন আর বিভিন্ন ফরম্যাটে এক্সপোর্ট করা যায়। ফ্রি ভার্সনে ওয়াটারমার্ক থাকে।
- Clideo: ইউটিউব ভিডিও মার্জের অনলাইন টুল। নানা অনুপাত, ফরম্যাট ও সাবটাইটেল সাপোর্ট করে। ফ্রি ভার্সনে ওয়াটারমার্ক থাকে।
- Kapwing: অনলাইন এডিটর ও মার্জার টুল; ভিডিও একত্র, ট্রানজিশন, স্লাইডশো বানানো যায়। ফ্রি ভার্সনে ওয়াটারমার্ক থাকে।
- VLC Media Player: ফ্রি ভিডিও মার্জার; ইউটিউব ভিডিও বহু ফরম্যাটে একসঙ্গে করতে পারে, তবে এডিট ফিচার তুলনামূলক কম।
- VideoProc: উইন্ডোজ ও ম্যাকের জন্য শক্তিশালী এডিটর ও মার্জার। 4K, নানা ফরম্যাট, ট্রানজিশন, ওভারলে আর সাবটাইটেল যোগ করা যায়।
সব মিলিয়ে, ইউটিউব ভিডিও সরাসরি মার্জ করা না গেলেও, বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার দিয়ে সহজেই এই কাজ করা যায়। নতুন ভিডিও বা ব্যক্তিগত সংকলন বানাতে নিজের প্রয়োজন আর দক্ষতা অনুযায়ী মানানসই টুল বেছে নিন।

