সম্প্রতি CNBC-র Fortt Knox পডকাস্টে Speechify-এর প্রতিষ্ঠাতা ও CEO Cliff Weitzman কথা বলেছেন তাঁর উদ্যোক্তা পথচলা ও মিশন নিয়ে—সবার জন্য, বিশেষ করে পড়া সহজলভ্য করে তোলা, বিশেষত যারা শিখন সমস্যায় যেমন ডিসলেক্সিয়া এবং ADHD-তে ভুগছেন। এদের অনেকের কাছেই প্রযুক্তি জটিল মনে হয় বা প্রয়োজনমতো সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। উন্নত AI ভাষণ প্রযুক্তি দিয়ে Speechify সেই বাধা ভেঙে পাঠ্যকে আরও সহজ ও প্রাপ্য করে তোলে।
Speechify-এর অনুপ্রেরণা
প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথে উইৎজম্যানের যাত্রা ছিল ভীষণ ব্যক্তিগত। ১৩ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইংরেজিতে দুর্বলতা, তীব্র ডিসলেক্সিয়া এবং ADHD-এর কারণে নানা সমস্যায় পড়েন। প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি তাঁর জন্য কাজ করছিল না। তখন তাঁর বাবা ক্যাসেট টেপে বই পড়ে রেকর্ড করতে শুরু করেন, যাতে তিনি শুনে শিখতে পারেন। এভাবে লিখে পড়া যতই কঠিন হোক, গল্প শোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়, আর ধীরে ধীরে শ্রবণভিত্তিক শেখার প্রতি ভালোবাসা গড়ে ওঠে।
শিক্ষাজীবনে উইৎজম্যান নানাভাবে অডিওর গতি বাড়িয়ে পরীক্ষা করেন এবং দেখেন, শুনে তিনি অনেক দ্রুত তথ্য বুঝতে পারেন—যা চোখে পড়ে পড়ার চেয়ে অনেক দ্রুত। এইভাবে অডিও শেখার মাধ্যমে তাঁর শোনার দক্ষতা ও শেখার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তিনি বলেন, "সাধারণত মানুষ প্রতি মিনিটে ১৮০-২০০টি শব্দ পড়ে... কিন্তু কান আরও বেশি গতি সামলাতে পারে।"
সাক্ষাৎকারের অনুপ্রেরণাদায়ী অংশগুলোর একটি ছিল উইৎজম্যানের ভাই Tyler Weitzman-এর গল্প, যিনি নিজেও দৃষ্টিজনিত সমস্যাসহ নানা চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ছোটবেলা থেকেই দুর্দান্ত প্রযুক্তি দক্ষতা দেখিয়েছেন। Tyler অল্প বয়সে কোডিং শেখেন, এনক্রিপশন ও কম্পিউটার সায়েন্সে আগ্রহ দেখান এবং পরে সাইবার সিকিউরিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সাফল্য অর্জন করেন। এখান থেকেই তিনি Speechify-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার প্রেরণা পান।
সেরা টেক্সট টু স্পিচ সমাধান
Cliff Weitzman সাক্ষাৎকারে বলেন, Speechify-এর দর্শন হল—পড়া ও শেখা যেন সবার জন্য সহজলভ্য হয়। টেক্সট টু স্পিচ প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের—যেমন তিনি ও তাঁর ভাই, যারা ডিসলেক্সিয়া, ADHD, বা দৃষ্টিজনিত সমস্যা-এর সঙ্গে লড়ছেন—তাদের নিজের পছন্দের পদ্ধতিতে শেখার সুযোগ দেয়, ফলে জ্ঞানের দরজা আরও উন্মুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, Speechify-এর প্রভাব শুধু শেখার সমস্যায় ভোগাদের মধ্যে সীমিত নয়; বরং আরও বড় পরিসরে পেশাদার, শিক্ষার্থী ও যেসব মানুষ তাঁদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে চান, সবার জন্যই উপকারী। অ্যাপটি টেক্সট টু স্পিচ এবং মাল্টিটাস্কিং-এর (যেমন গাড়ি চালানো বা রান্নার সময় শোনা) সুযোগ দেয়, ফলে তথ্য গ্রহণের ধারাবাহিকতা না ভেঙেই সময় ব্যবস্থাপনা করা যায়।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
Speechify এখন অন্যতম সেরা টেক্সট টু স্পিচ অ্যাপ, যার মাধ্যমে যেকোনো ডিজিটাল বা লিখিত টেক্সট সহজেই শোনা যায়। ইমেইল, ডকুমেন্ট বা ওয়েব পেজ—যাই হোক না কেন, Speechify অ্যাক্সেসিবিলিটি বাড়ায়, আর ব্যবহারকারী নিজের মতো করে গতি ঠিক করতে পারেন। এখন ৬০+ ভাষা ও নানাধরনের ভয়েস—যেমন Snoop Dogg ও Gwyneth Paltrow-সহ—বৈশ্বিক ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত।
Cliff Weitzman আরও জানান, অ্যাপটি ব্যবহার করে নানা উপায়ে কাজ করা যায়—টেক্সটের ছবি তুলে পড়ে শোনা, Google Drive-এর মতো ক্লাউড সার্ভিস যুক্ত করা, আর ব্রাউজার এক্সটেনশন দিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনায়াসে পড়া সম্ভব।
ভবিষ্যৎ ও ধারাবাহিক উদ্ভাবন
ভবিষ্যৎ নিয়ে উইৎজম্যানের লক্ষ্য শুধু টুল বানানো নয়; তিনি চান মানুষ কীভাবে পাঠ্য ব্যবহার করে, তার ধারা বদলে দিতে। Speechify-কে ক্রমাগত উন্নত করে তিনি ব্যবহারকারীর বহুমুখী প্রয়োজন মেটাতে চান, যেন প্রযুক্তি ও অ্যাক্সেসিবিলিটি পাশাপাশি এগোয়। অ্যাপটি নিয়মিত নতুন ফিচার যোগ করে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও অ্যাক্সেসিবিলিটি আরও উন্নত করছে।
পুরো সাক্ষাৎকার শুনুন
Speechify-এর গল্প শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়; এটি দেখায় প্রযুক্তি কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান গড়ে তুলতে পারে, যাদের ঐতিহ্যবাহী শিখন পদ্ধতিতে পিছিয়ে পড়তে হয়, তাদের প্রয়োজনও পূরণ করে। Cliff Weitzman-এর সাক্ষাৎকার শুনতে যান Fortt Knox YouTube চ্যানেলে।