Speechify আজ একটি প্রাথমিক সংস্করণ প্রকাশ করেছে এক নতুন ভয়েস-কন্ট্রোলড কম্পিউটিং সিস্টেমের, যার অভ্যন্তরীণ নাম Jarvis। এটি এমন এক ভয়েস ইন্টারফেস, যা দিয়ে ব্যবহারকারীরা শুধু কণ্ঠস্বরেই পুরো কম্পিউটার চালাতে পারেন। এই প্রিভিউ ইঙ্গিত দিচ্ছে সেই ভবিষ্যতের দিকে—যেখানে টাইপ, ক্লিক বা স্পর্শ ছাড়াই অ্যাপ ব্যবহার, কাজ সম্পন্ন—সব নিয়ন্ত্রণই কণ্ঠে।
এই প্রোটোটাইপটি সম্প্রতি অভ্যন্তরীণভাবে দেখানো হয়েছে এবং Speechify-এর প্রতিষ্ঠাতা ও CEO ক্লিফ ওয়েইৎজম্যান তা সবার জন্য উন্মুক্ত করেছেন। ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিকভাবে কথা বললেই Speechify বিভিন্ন অ্যাপ ও উইন্ডোতে রিয়েল-টাইমে অ্যাকশন নেয়।
ডেমোতে শুধু বলা নির্দেশেই অ্যাপ খোলা, কন্টাক্ট খোঁজা, ইন্টারফেস ঘোরা আর মেসেজ পাঠানোর মতো কাজ হয়। আলাদা উইন্ডো পাল্টানো বা সফটওয়্যারে হাত না দিয়েই কণ্ঠে সব কাজ সেরে ফেলা যায়।
সিস্টেমের একটি প্রাথমিক ভিডিও প্রিভিউ দেখুন এখানে, আমাদের CEO ক্লিফ ওয়েইৎজম্যানের কাছ থেকে।
পুরো কম্পিউটারের জন্য ভয়েস ইন্টারফেস
ঐতিহ্যবাহী AI অ্যাসিস্ট্যান্ট সাধারণত প্রশ্নের উত্তর দেয় বা টেক্সট তৈরি করে। সফটওয়্যারে AI টুল থাকলেও, তখনও নিজেরাই অ্যাপ খুলে, মেনু নেভিগেট করে কাজ করতে হয়।
Speechify Jarvis একেবারে আলাদা এক মডেল সামনে আনে।
ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে কথা বললেই সিস্টেম সরাসরি কম্পিউটারে সেই নির্দেশ মেনে কাজ চালায়। অ্যাপ নিজে খুলে, কাজ গুছিয়ে একের পর এক এগিয়ে যায়, আর কিছু না ছুঁয়েই টাস্ক শেষ হয়ে যায়।
ভয়েস থাকে পুরো অপারেটিং এনভায়রনমেন্টজুড়ে একটানা সক্রিয় কন্ট্রোল লেয়ার হিসেবে—শুধু কথোপকথনের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়।
এআই চ্যাট থেকে ভয়েস-কন্ট্রোলড কম্পিউটিংয়ে
আজকের বেশিরভাগ AI টুল টাইপ করা প্রম্পট আর চ্যাট ইন্টারফেসকে কেন্দ্র করে বানানো। এগুলো জবাব দেয়, টেক্সট বানায়, কিন্তু সরাসরি অ্যাপে গিয়ে কাজ চালাতে পারে না।
Speechify Jarvis Speechify-এর Voice AI প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত নিয়ে গেছে।
সহকারীর কাছে শুধু নির্দেশনা নিয়ে নিজে কাজ না করে, ব্যবহারকারী যা বলেন, সিস্টেম সঙ্গে সঙ্গে সেটাই টাস্ক হিসেবে শেষ করে। সফটওয়্যারের সঙ্গে মূল ইন্টারফেস হয়ে ওঠে কণ্ঠস্বর।
Speechify এই ধাপকে দেখছে কীবোর্ড ও ঐতিহ্যবাহী ইনপুট ডিভাইসের ওপর নির্ভরতা কমানোর বড় পদক্ষেপ হিসেবে।
“আমরা এমন কিছু তৈরি করেছি, যা আগে কেউ করেনি,” বলেন Speechify-এর প্রতিষ্ঠাতা ও CEO ক্লিফ ওয়েইৎজম্যান। “আপনি কম্পিউটারের সঙ্গে কথা বলেন আর সে আপনার হয়ে কাজ করে। কোনো ক্লিক নেই, টাইপ নেই, ছোঁয়া নেই— পুরো মেশিন কণ্ঠেই চলে।”
স্বাভাবিক ইন্টারঅ্যাকশনকে কেন্দ্রে রেখে ডিজাইন
Speechify Jarvis তৈরি হয়েছে Speechify-এর বিদ্যমান ভয়েস-ফার্স্ট প্ল্যাটফর্মের ওপর, যেখানে টেক্সট-টু-স্পীচ, ভয়েস টাইপিং ডিক্টেশন এবং কথোপকথনভিত্তিক Voice AI Assistant একসঙ্গে কাজ করে।
নতুন সিস্টেম এই সক্ষমতাকে শুধু পড়া-লেখার বাইরে নিয়ে গিয়ে সরাসরি কর্মপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করে। কণ্ঠে অ্যাপ খুলুন, নেভিগেট করুন, বার্তা পাঠান, উইন্ডো বদলান—সবই যেন স্বাভাবিক কথোপকথনের মতো।
জটিল কমান্ড বা শর্টকাট নয়, সহজ কথোপকথন থেকেই অ্যাকশন শুরু হয়।
এই সিস্টেম বর্তমানে Speechify-এর কম্পিউটারে চলছে— আর ভবিষ্যৎ পণ্যের এক ঝলক হিসেবে কাজ করছে।
ভয়েস-নেটিভ অপারেটিং মডেলের পথে
Speechify-এর এই প্রিভিউ ভয়েস-নেটিভ কম্পিউটিংয়ের দিকে এক বড় ঢেউয়ের ইঙ্গিত। যদিও কীবোর্ড ও গ্রাফিকাল ইন্টারফেস এখনও মূলধারায়, Speechify বিশ্বাস করে, ভবিষ্যতে অনেক কাজেই ভয়েসই হবে প্রধান ইন্টারফেস।
Jarvis-এর প্রিভিউ দেখাচ্ছে, কণ্ঠের মাধ্যমে কম্পিউটারের সঙ্গে একদম মুখোমুখি আলাপের মতো ইন্টারঅ্যাকশনের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ।
Speechify-এর ভাষায়, এই প্রযুক্তি ভয়েসকে প্রোডাক্টিভিটি আর নলেজ ওয়ার্কে প্রধান ইন্টারফেস বানানোর পথে প্রথম ধাপ — সামনে আরও আপডেট আসছে।
Speechify সম্পর্কে
Speechify একটি ভয়েস AI Assistant, যা মানুষকে কণ্ঠে পড়া, লেখা ও তথ্য বোঝার কাজে সহায়তা করে। বিশ্বজুড়ে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী Speechify-এর ওপর ভরসা করেন। এটি দেয় টেক্সট-টু-স্পীচ, ভয়েস টাইপিং ডিক্টেশন আর কথোপকথন অ্যাসিস্ট্যান্ট AI assistant-এ এক্সেস—iOS, Android, Mac, ওয়েব ও Chrome-এ। ২০২৫ সালে Speechify অ্যাপল ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে অ্যাক্সেসিবিলিটি ও প্রোডাক্টিভিটি-তে অবদানের জন্য। Speechify ২০০+ দেশে ব্যবহৃত এবং এতে ৬০+ ভাষায় ১,০০০+ স্বাভাবিক ভয়েস রয়েছে—এর মধ্যে Snoop Dogg ও Gwyneth Paltrow-র ভয়েসও আছে।